কোনো ধরনের দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি, সন্ত্রাসী, দখলদার, চাঁদাবাজ কিংবা অস্ত্রধারীদের দলে কোনো ঠাঁই দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসনের সংসদ সদস্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার শাখাওয়াত হোসেন বকুল।
শুক্রবার স্থানীয় মনোহরদী ও বেলাব উপজেলা বিএনপি এবং এর সহযোগী সংগঠনসমূহের নেতাকর্মীদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা প্রদান করেন।
বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব এবং নানা সাংগঠনিক কর্মব্যস্ততার কারণে সার্বক্ষণিকভাবে এলাকায় অবস্থান করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তা সত্ত্বেও এলাকার নানাবিধ অবকাঠামোগত অগ্রগতি ও জনকল্যাণমুখী কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই স্থানীয় পর্যায়ে তাৎপর্যপূর্ণ উন্নয়ন বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে এবং আসন্ন ছয় মাসের মধ্যে দৃশ্যমান আরও বেশ কিছু উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হবে।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি তাঁকে মুন্সীগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ জেলার উন্নয়ন বিষয়ক সমন্বয় এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড দেখভালের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। ফলে তাঁর সরকারি প্রশাসনিক কর্মপরিধি ও দলীয় দায়িত্ব পূর্বের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এলাকাভিত্তিক দুর্বল ও অসহায় নাগরিকদের সহায়সম্পদ দখলসহ নানা অনিয়মের খবর প্রসঙ্গে দলের কর্মীদের কড়া বার্তা দিয়ে তিনি জানান, যেকোনো অন্যায় ও অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার কিংবা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার রাজনীতি পুরোপুরি ত্যাগ করার জন্য তিনি সবাইকে পরামর্শ দেন।
জনগণের কাছে তৃণমূল কর্মীদের দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরদার শাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, পদমর্যাদা আঁকড়ে না রেখে জনসেবায় আত্মনিয়োগ করাই মুখ্য বিষয় হওয়া উচিত। আমজনতার পূর্ণ আস্থা অর্জন করাকেই মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করতে হবে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সাথে দুর্ব্যবহার, অবৈধ অর্থ দাবি, হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড কিংবা অনিয়মে জড়ালে তা সরাসরি সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ন করে। যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
একটি সুস্থ রাজনৈতিক আবহ বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি আহ্বান জানান, সাধারণ মানুষের সাথে সদয় আচরণের মাধ্যমেই প্রতিটি কর্মীকে নিজেদের ভালো মানুষ হিসেবে জাহির করতে হবে।
উক্ত সম্মেলনে মনোহরদী ও বেলাব উপজেলার দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিনিধি এবং সহযোগী সংগঠনের কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে, ব্যক্তিস্বার্থ বিসর্জন দিয়ে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা মেনে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।