বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান জানান, সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প পরিকল্পনা (আরডিপিপি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) চূড়ান্ত ছাড়পত্র পেলে আগামী ১২ মাসের মধ্যে নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ অবকাঠামো কর্তৃপক্ষের কাছে অর্পণ করতে পারবে বলে আশ্বস্ত করেছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, চার সপ্তাহের মধ্যেই প্রকল্পটি একনেকের অনুমোদন পেয়ে যাবে। সেই আনুমানিক সময়সূচি ধরে এগোলে ২০২৭ সালের আগস্ট মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ নতুন বিদ্যাপীঠের পরিকাঠামো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সম্ভব হবে।
তবে পুরো কাজ সমাপ্তির জন্য এক বছর প্রহর গুনতে চান না জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ইতোমধ্যে নতুন ক্যাম্পাসের সিংহভাগ অবকাঠামোগত অগ্রগতি দৃশ্যমান। ফলে আরডিপিপি পাসের ছয় মাসের মাথায় আংশিক ভবন ও অবকাঠামো বুঝে নিয়ে প্রাথমিকভাবে কিছু শিক্ষাবর্ষ বা বিভাগের পাঠদান শুরু করার চিন্তা রয়েছে। এই সমীকরণ অনুযায়ী আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই নতুন আঙিনায় পাঠদান শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
পরিসর বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন বিষয় যুক্ত করার বিষয়ে উপাচার্য জানান, শিক্ষাবোর্ডের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে নতুন পাঁচটি বিষয় অন্তর্ভুক্তির আবেদন পেশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বিভাগগুলোর মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই), মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, পপুলেশন সায়েন্স এবং সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে নিয়ামক সংস্থার সাথে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে এবং সবুজ সংকেত মিললেই নতুন সীমানায় বিষয়গুলোর পঠন-পাঠন শুরু হবে।
প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশল বিভাগের হালনাগাদ বিবরণী অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নতুন আঙিনার সার্বিক নির্মাণকাজের প্রায় ৮৬ শতাংশ ইতিপূর্বে সমাপ্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রশাসনিক প্রধানের বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র, একটি ছাত্রী নিবাস এবং বিদ্যালয় ভবনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোর নির্মাণ প্রায় চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের প্রথমভাগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল ব্রিগেডের সাথে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে ঐ বছরের শেষের দিকে ভূমি রূপান্তর ও ভৌত পরিকাঠামোর কাজ শুরু হয়। প্রাথমিক চুক্তি অনুযায়ী ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারিত থাকলেও নির্ধারিত সময়ে সমাপ্ত না হওয়ায় পর্যায়ক্রমে ২০২৫ ও পরবর্তীতে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। তবে অতিরিক্ত সময় অতিক্রম করলেও আর্থিক সংকটের কারণে এখনো পর্যন্ত সম্পূর্ণ কাজ গুটিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।