বৃহস্পতিবার, 22 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের ৪ শতাংশ কৃষি খাতে বাধ্যতামূলক করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

কৃষি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়াতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি ও পল্লিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের অন্তত ৪ শতাংশ কৃষি খাতে বিতরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগে এ ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক হার ছিল ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের ৪ শতাংশ কৃষি খাতে বাধ্যতামূলক করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

কৃষি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়াতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি ও পল্লিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের অন্তত ৪ শতাংশ কৃষি খাতে বিতরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগে এ ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক হার ছিল ২ দশমিক ৫ শতাংশ।


সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন কৃষি ও পল্লিঋণ নীতিমালা ঘোষণা করেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান।


নতুন লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য ২০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর জন্য ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার কোটি টাকা।


বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাষ্য, কৃষিতে অর্থের প্রবাহ বাড়িয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখাই নতুন নীতিমালার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে কৃষিঋণ বিতরণ ও কার্যক্রমের নজরদারি আরও কার্যকর করতে চালু করা হয়েছে ‘ওয়েব বেসড এগ্রি-ক্রেডিট এমআইএস সফটওয়্যার’।


যেসব সুবিধা থাকছে


নতুন নীতিমালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে প্রচলিত স্থাবর সম্পত্তির জামানতের পরিবর্তে ব্যক্তিগত, সামাজিক কিংবা দলগত জামানত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, এর ফলে বিশেষ করে নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের ঋণ পাওয়ার পথ আরও সহজ হবে।


গ্রামীণ অঞ্চলের বিভিন্ন আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডেও দলগত ঋণ দেওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব ঋণের ক্ষেত্রে একটি দলে কতজন সদস্য থাকতে পারবেন, সেই সীমাও শিথিল করা হয়েছে।


কৃষিঋণের আওতায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে মাছ ও হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের হ্যাচারি, উট পালনসহ কয়েকটি খাত। এ ছাড়া ব্লুবেরি, শিমুল মূল, অশ্বগন্ধা এবং ডিমের খোসা ব্যবহার করে জৈব সার উৎপাদনের মতো উদ্যোগেও কৃষিঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকবে।


কৃষক হিসেবে আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষি, মৎস্য বা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রত্যয়ন অথবা সরকারি ‘কৃষক কার্ড’ গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে পাসবই থাকার বাধ্যবাধকতাও তুলে দেওয়া হয়েছে।


জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষকদের বিমার আওতায় আনার সুযোগও রাখা হয়েছে নতুন নীতিমালায়। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ও গ্রাহকের পারস্পরিক সম্মতি থাকতে হবে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, নতুন নীতিমালার ফলে কৃষি খাতে অর্থায়নের পরিমাণ বাড়বে। এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য কমানো এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কৃষিঋণ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।