মঙ্গলবার, 27 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রেখে তৃতীয় দিন শেষ করল বাংলাদেশ

ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার শেষ প্রতিরোধও ভাঙতে শুরু করেছে। বল হাতে আবারও শুরুতেই সাফল্য এনে দেন হাসান মাহমুদ। এরপর স্টিভেন স্মিথের প্রতিরোধ কিছুটা স্বস্তি দিলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকেও ফিরিয়ে দেয় বাংলাদেশ। ফলে তৃতীয় দিন শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নাজমুল হোসেন শান্তর দলের হাতে।

অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রেখে তৃতীয় দিন শেষ করল বাংলাদেশ

ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার শেষ প্রতিরোধও ভাঙতে শুরু করেছে। বল হাতে আবারও শুরুতেই সাফল্য এনে দেন হাসান মাহমুদ। এরপর স্টিভেন স্মিথের প্রতিরোধ কিছুটা স্বস্তি দিলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকেও ফিরিয়ে দেয় বাংলাদেশ। ফলে তৃতীয় দিন শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নাজমুল হোসেন শান্তর দলের হাতে।

শনিবার তৃতীয় দিনের খেলা শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৬১ রান। ইনিংস হার এড়াতে স্বাগতিকদের এখনও প্রয়োজন ৬৭ রান।

প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানে পিছিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ধাক্কা দেন হাসান মাহমুদ। জ্যাক ওয়েদারল্ড স্টাম্পে টেনে এনে বোল্ড হয়ে যান কোনো রান না করেই।

এরপর ট্রেভিস হেড কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তিনটি বাউন্ডারিতে রান তোলার আভাসও দিচ্ছিলেন তিনি। তবে দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে সেই প্রতিরোধও ভেঙে দেন হাসান। অফ স্টাম্পের বাইরের বল কাট করতে গিয়ে পর্যাপ্ত জায়গা পাননি হেড। ব্যাটের নিচের অংশে লেগে বল সরাসরি স্টাম্পে আঘাত করলে ৩৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।

ইবাদত হোসেনের বলে স্টিভ স্মিথকে কট বিহাইন্ডের সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন আম্পায়ার। তবে রিভিউ নিয়ে সে যাত্রায় বেঁচে যান অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ব্যাটার। চা-বিরতির সময় অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ছিল ২ উইকেটে ৫১ রান।

চা-বিরতির পর স্মিথ ও মার্নাস লাবুশেন জুটি গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাইজুল ইসলামের তুলনামূলক নিরীহ এক বলেই শেষ হয় লাবুশেনের ইনিংস। সোজা বলটি আয়েশি ভঙ্গিতে ফ্লিক করতে গিয়ে বোল্ড হন তিনি। ৫৯ বলে ৩১ রান করে লাবুশেন ফিরলে ভাঙে ৩৬ রানের জুটি।

এরপর ক্যামেরন গ্রিনকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন স্মিথ। প্রথম ইনিংসের তুলনায় দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁকে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ মনে হচ্ছিল। কিন্তু দিনের শেষ ঘণ্টায় আবারও সহজাত এক শটেই বিদায় নেন তিনি। মেহেদী হাসান মিরাজের বল মিড-অনে ঠেলে সিঙ্গেল নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন স্মিথ। ৪৯ রানের জুটির সমাপ্তি ঘটে সেখানেই।

৮৮ বলে ৪৪ রান করা স্মিথের উইকেটটি দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে ওঠে। তাঁর বিদায়ের পর বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

তবে দিনের শেষ ভাগে আর কোনো উইকেট হারায়নি অস্ট্রেলিয়া। প্রবল চাপের মধ্যেও ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স কেয়ারি ৩৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দিন শেষ করেন। গ্রিন ৪৩ এবং কেয়ারি ১৯ রানে অপরাজিত রয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়া কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন বাংলাদেশের হাতেই। চতুর্থ দিন সকালে দ্রুত বাকি উইকেটগুলো তুলে নিতে পারলে দেশের ক্রিকেটে যোগ হতে পারে এক ঐতিহাসিক সাফল্য।