বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

বিষাক্ত মদ পান করিয়ে হত্যা, অভিযুক্ত দুই ভাই গ্রেফতার

রংপুরের মিঠাপুকুরে মাদক ব্যবসার অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে অতিরিক্ত ও বিষাক্ত মদ খাইয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সহোদর দুই ভাইকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৩। সোমবার বিকেলে র‍্যাবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিষাক্ত মদ পান করিয়ে হত্যা, অভিযুক্ত দুই ভাই গ্রেফতার
ছবি : সংগৃহীত

রংপুরের মিঠাপুকুরে মাদক ব্যবসার অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে অতিরিক্ত ও বিষাক্ত মদ খাইয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সহোদর দুই ভাইকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৩। সোমবার বিকেলে র‍্যাবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত দুই ব্যক্তি হলেন মিঠাপুকুর উপজেলার খোদ্দ কোমরপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলাম।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, মিঠাপুকুরের বালারহাট অঞ্চলে বেআইনি মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও লেনদেন নিয়ে স্থানীয় সাজু মিয়ার সঙ্গে রফিকুলের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এই শত্রুতামূলক সম্পর্কের অবসান ঘটাতে সাজু মিয়াকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি নীল নকশা তৈরি করা হয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৩০ মে রাতে কৌশলে সাজু ও তার আরও তিন সহযোগীকে একটি ফল বাগানে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের অতিরিক্ত ও ভেজাল মদ পান করানো হয়। বাগান থেকে ফেরার পরই সবাই তীব্র অসুস্থতা অনুভব করেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সাজুকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ জুন তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তার সাথে থাকা বাকি বন্ধুরাও বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই মর্মান্তিক ঘটনায় সর্বমোট পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটে।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহত সাজু মিয়ার ভাগনে বাদী হয়ে বিষপ্রয়োগে খুনের অভিযোগ এনে মিঠাপুকুর থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন। একই সাথে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানির এই ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় বেশ আলোড়ন তৈরি করে। ঘটনার ভয়াবহতা আমলে নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি র‍্যাবের একটি বিশেষ দল অপরাধীদের ধরতে অনুসন্ধানে নামে।

অবশেষে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার আশুলিয়া সংলগ্ন নিরিবিলি এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা ওই দুই ভাইকে আইনের আওতায় আনা হয়। র‍্যাব-১৩ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ধৃত আসামিদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে এবং এই ধরণের অপরাধ দমনে তাদের কার্যক্রম জারি থাকবে।