বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

বল নিজেই ধরবে অফসাইড, জানুন কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি

ফুটবল প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। আধুনিক সেন্সর, তাৎক্ষণিক তথ্য বিশ্লেষণ এবং অভিনব নকশার সমন্বয়ে তৈরি অফিসিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রাইওন্ডা’ (TRIONDA) ইতোমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম উন্নত স্মার্ট বল হিসেবে বিবেচিত এই বল মাঠে রেফারিং ও ম্যাচ পরিচালনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বল নিজেই ধরবে অফসাইড, জানুন কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি

ফুটবল প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। আধুনিক সেন্সর, তাৎক্ষণিক তথ্য বিশ্লেষণ এবং অভিনব নকশার সমন্বয়ে তৈরি অফিসিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রাইওন্ডা’ (TRIONDA) ইতোমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম উন্নত স্মার্ট বল হিসেবে বিবেচিত এই বল মাঠে রেফারিং ও ম্যাচ পরিচালনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচ বলের বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ সংযোজন হিসেবে সামনে এসেছে ‘ট্রাইওন্ডা’। ক্রীড়াসামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস তৈরি করেছে এই বল, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত নকশার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।

‘ট্রাইওন্ডা’ নামটির মধ্যেই রয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপের তিন স্বাগতিক দেশের পরিচয়। ইংরেজি ‘Tri’ এবং স্প্যানিশ ‘Onda’ শব্দের সমন্বয়ে গঠিত এই নাম তিন দেশের ঐক্য ও সম্মিলিত শক্তির প্রতীক। ‘Tri’ দিয়ে কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝানো হয়েছে, আর ‘Onda’-এর অর্থ ঢেউ। ফলে নামটির অর্থ দাঁড়ায় তিন দেশের ঐক্যের ঢেউ।

বলের নকশায়ও তুলে ধরা হয়েছে আয়োজক দেশগুলোর সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য। এতে কানাডার ম্যাপল পাতার প্রতীক, মেক্সিকোর জাতীয় ঈগল এবং যুক্তরাষ্ট্রের তারকা চিহ্ন স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি লাল, সবুজ ও নীল রঙের ব্যবহার তিন দেশের যৌথ আয়োজনের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

ট্রাইওন্ডার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর অত্যাধুনিক ‘কানেক্টেড বল’ প্রযুক্তি। বলের ভেতরে সংযুক্ত ৫০০ হার্টজের মোশন সেন্সর প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম। বলের অবস্থান, গতি, স্পর্শ ও চলাচলসংক্রান্ত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে ভিএআর সিস্টেমে পাঠানো হবে। ফলে অফসাইড, হ্যান্ডবল কিংবা বল স্পর্শসংক্রান্ত বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দ্রুত ও আরও নির্ভুলভাবে নেওয়া সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২২ বিশ্বকাপে স্মার্ট বল প্রযুক্তির প্রাথমিক ব্যবহার দেখা গেলেও ট্রাইওন্ডায় সেই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করা হয়েছে। এতে ম্যাচ পরিচালনার ক্ষেত্রে রেফারিরা আরও কার্যকর সহায়তা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বলের গঠনেও রয়েছে নতুনত্ব। মাত্র চারটি প্যানেল দিয়ে তৈরি ট্রাইওন্ডা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম প্যানেলবিশিষ্ট বলগুলোর একটি। নির্মাতাদের দাবি, এই বিশেষ কাঠামো বলের উড্ডয়নকে আরও স্থিতিশীল করবে, নিয়ন্ত্রণ বাড়াবে এবং গতিপথকে অধিক পূর্বানুমানযোগ্য করে তুলবে। ফলে খেলোয়াড়দের জন্য বল নিয়ন্ত্রণ আরও সহজ হবে।

প্রযুক্তিগত সুবিধাগুলো সচল রাখতে বলের অভ্যন্তরীণ চিপ নিয়মিত চার্জ দিতে হবে। পূর্ণ চার্জে এটি প্রায় ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

এদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপও হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেবে এবং মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, আর ১৯ জুলাই নিউ জার্সিতে হবে ফাইনাল।

প্রযুক্তি ও ফুটবলের ঐতিহ্যের সমন্বয়ে তৈরি ট্রাইওন্ডাকে শুধু একটি ম্যাচ বল নয়, বরং বিশ্বকাপের নতুন প্রযুক্তিনির্ভর যুগের প্রতীক হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।