ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে নিজের বসতভিটা বিক্রি করে ভাড়া বাসায় থেকে মুদি ব্যবসা করে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছিলেন ইন্দ্রজিৎ সাহা।
তবে এক রাতের আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে তাঁর সেই শেষ আশ্রয়স্থল দোকান ও ভেতরের সমস্ত মালামাল পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। সর্বস্ব হারিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন এই ব্যবসায়ী।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের অন্তর্গত ময়েনদিয়া বাজারে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই সময় বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টায় আশপাশের প্রায় ১৫টি দোকান বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়।
ফায়ার সার্ভিস ও বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা গেছে, প্রতিদিনের রুটিন অনুযায়ী রাত সাড়ে এগারোটার দিকে দোকান বন্ধ করে বাসায় ফিরেছিলেন ইন্দ্রজিৎ সাহা। এরপর রাত বারোটার দিকে তিনি জানতে পারেন যে তাঁর দোকানে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে ভেতরের সমস্ত পণ্যসামগ্রী পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ী পল্লব সাহা জানান, ইন্দ্রজিৎ খুচরা ও পাইকারি উভয় ধরনের ব্যবসাই করতেন এবং তাঁর দোকানে প্রচুর মালামাল মজুত ছিল। কিছুদিন আগেই নিজের জমি বিক্রি করে দোকানে নতুন করে পণ্য তুলেছিলেন তিনি। এই আগুনে তাঁর আর কিছুই অবশিষ্ট রইল না।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইন্দ্রজিৎ সাহা বলেন, দীর্ঘ দুই দশক ধরে তিনি এই মুদি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। সম্প্রতি নিজের বসতভিটার সাত শতক জায়গা বিক্রি করে ব্যবসার পরিধি বাড়াতে দোকানে নতুন মালামাল তুলেছিলেন। এর বাইরেও ব্যবসায়ের খাতিরে অনেকের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার রাতের আগুন তাঁর জীবনের শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নিয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার আর কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি।
বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা রয়েল আহমেদ এই দুর্ঘটনার বিষয়ে জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে মনে হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ কত তা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে নিশ্চিত করা যাবে।