ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, আশুগঞ্জ ও বাঞ্ছারামপুরে পৃথক তিনটি ঘটনায় দুই গৃহবধূ ও এক বৃদ্ধের আত্মহননের খবর পাওয়া গেছে। সাংসারিক মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব, ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে ঝামেলা এবং তীব্র মানসিক বিষণ্ণতার জেরে এই মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে।গতকাল দুপুরের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করে।
পুলিশ ও পারিবারিক তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, আখাউড়ার ধরখার ইউনিয়নের ছতুরা শরীফ গ্রামের পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা শাহ-জালালের স্ত্রী সাবেকুর নাহার পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে সকালের দিকে ঘরে থাকা বিষাক্ত কীটনাশক সেবন করেন। মুমূর্ষু অবস্থায় স্বজনরা তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অনুরূপ এক ঘটনায় আশুগঞ্জের লালপুর গ্রামে কিস্তির অর্থ জোগাড় করা নিয়ে দম্পতির মাঝে বিরোধ তৈরি হয়। এর জেরে বলা মিয়ার স্ত্রী নাছিমা বেগম দুপুরের দিকে বিষপান করেন। বিকেলে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, দুই নারীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট থানায় অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে।
অন্য ঘটনায় বাঞ্ছারামপুরের আশ্রাফবাদ গ্রামে আনিছ মিয়া নামের এক বৃদ্ধ নিজ বাড়ির আঙিনায় গাছের সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। নিহতের স্বজনরা জানান, পেশায় ভিক্ষুক এই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। এর ওপর গত কোরবানির ঈদের পর তার স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে গিয়ে আর ফিরে না আসায় তিনি তীব্র একাকীত্ব ও মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াছিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।