সোমবার, 21 সেপ্টেম্বর 2026
সকল বিভাগ

এপস্টেইন ফাইলে হাসিনা ও মোদির নাম! চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি প্রকাশিত ৩০ লাখের বেশি নথিতে বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তার সংযোগের তথ্য উঠে এসেছে। এই নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।

এপস্টেইন ফাইলে হাসিনা ও মোদির নাম! চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি প্রকাশিত ৩০ লাখের বেশি নথিতে বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তার সংযোগের তথ্য উঠে এসেছে। এই নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।

যদিও নথিতে সরাসরি শেখ হাসিনার নাম উল্লেখ নেই, তাকে “বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, এপস্টেইনের টিমের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কিছু সংযোগ বা সমঝোতা ছিল।

প্রকাশিত একটি ইমেইলে দেখা গেছে, এপস্টেইনের সহকারী লেসলি গ্রোফ, যিনি প্রায় ২০ বছর ধরে তার সঙ্গে কাজ করেছেন, উল্লেখ করেছেন যে “কোনো একটি অজানা বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের টিমের সমঝোতা হয়েছে।” তবে ইমেইলে বলা হয়নি, ওই বিষয়টি কী ছিল। ইমেইলটি পাঠানো হয় ২০১৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাত ১টায়।

নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামও উঠে এসেছে। এপস্টেইনের এক ইমেইলে উল্লেখ করা হয়েছে, মোদি তার পরামর্শ নিতেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করতে ইসরায়েল সফরে গিয়ে নাচ-গান করতেন, যা এপস্টেইনের ভাষ্য অনুযায়ী ইতিবাচক ফল দিয়েছিল।

স্মরণযোগ্য, ২০১৭ সালে মোদি প্রথমবারের মতো ইসরায়েল সফর করেন, এবং তার কয়েক সপ্তাহ আগে ওয়াশিংটনে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। নথিতে ভারতের শিল্পপতি অনিল আম্বানির নামও উল্লেখ রয়েছে। বলা হয়েছে, মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে আম্বানি এপস্টেইনের সহায়তা চেয়েছিলেন।

জেফরি এপস্টেইন ছিলেন নিউইয়র্কভিত্তিক ধনী বিনিয়োগকারী। তার বিরুদ্ধে নাবালিকাদের যৌন নির্যাতন, মানবপাচার এবং যৌন নিপীড়নের একাধিক অভিযোগ ছিল।

২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় এক কিশোরীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়ানোর জন্য তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। তবে বিতর্কিত চুক্তির মাধ্যমে মাত্র ১৩ মাসের স্বল্প সাজা ভোগ করে মুক্তি পান। পরে জানা যায়, ওই চুক্তির কারণে তাকে আরও গুরুতর অভিযোগ থেকে রেহাই মিলেছিল।

২০১৯ সালে নিউইয়র্কে আবারও তার বিরুদ্ধে নাবালিকাদের যৌন পাচারের মামলা হয়। এফবিআই এবং ফেডারেল কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ বছর ধরে তিনি ১৪–১৭ বছর বয়সী কিশোরীদের বিভিন্ন দেশে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করতেন।

তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ব্যবহার করে এপস্টেইন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড লুকিয়ে রেখেছিলেন।

২০১৯ সালের আগস্টে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে এপস্টেইনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মেডিকেল রিপোর্টে এটিকে আত্মহত্যা বলা হলেও, নিরাপত্তা ত্রুটি, ক্যামেরা বিকল এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে তার মৃত্যু নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।

এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ঘিষলেইন ম্যাক্সওয়েলকে ২০২০ সালে গ্রেপ্তার করা হয়। পরের বছর তাকে নাবালিকাদের যৌন পাচারসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং বর্তমানে তিনি ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।