ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে মোসলেহ উদ্দিন জনি নামে ২৫ বছর বয়সী এক যুবককে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হেফাজতে নিয়েছে।
সোমবার বিকালের দিকে উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের পূর্ব জয়নারায়ণপুর গ্রামের নিজ বাসস্থান থেকে তাকে আটক করা হয়। অভিযুক্ত জনি ওই গ্রামের প্রয়াত মো. মোস্তফার সন্তান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, জনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের ছবি ও নাম ব্যবহার করে বেশ কিছু আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন। বিষয়টি স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের নজরে আসলে তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। সোমবার শেষ বিকালের দিকে জনিকে তার বাড়ির সামনে দেখতে পেয়ে রাজাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতা নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, আশিক, রনি ও পলাশের নেতৃত্বে স্থানীয় যুবকরা তাকে চারদিক থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। এরপর তাকে আটকে রেখে তাৎক্ষণিকভাবে দাগনভূঞা থানায় সংবাদ দেওয়া হয়। খবর পাওয়ার পর পুলিশের একটি দল দ্রুত সেখানে পৌঁছে তাকে নিজেদের জিম্মায় নেয়।
আটকের পর ধারণকৃত একটি ভিডিও চিত্রে অভিযুক্ত জনিকে দাবি করতে দেখা গেছে যে, ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া পোস্টের স্ক্রিনশটটি মূলত কৃত্রিমভাবে তৈরি বা এডিট করা। তবে যে আইডি থেকে এটি ছড়ানো হয়েছে এবং যে মুঠোফোনটি ব্যবহার করা হয়েছে, দুটিই তার নিজস্ব বলে তিনি স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র মতে, জনি ২০২১ সালে রাজাপুর আলিম মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাঠ চুকিয়ে ফেলেন এবং বর্তমানে তিনি কোনো কর্মসংস্থানে যুক্ত ছিলেন না। এর আগেও তিনি বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উসকানিমূলক ও সমালোচনামূলক লেখালেখি করতেন।
এই অভিযানের বিষয়ে দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে অশ্লীল মন্তব্য করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে জনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পরপরই পুলিশ তাকে আইনের আওতায় আনতে তৎপরতা শুরু করে এবং এই কাজে স্থানীয় যুবকদের সহযোগিতা নেওয়া হয়। তবে তাকে গ্রিলের সাথে বেঁধে রাখার যে দাবি উঠেছে, তা সঠিক নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।