রাজধানীর শ্যামলীর একটি বেসরকারি শিশু চিকিৎসালয়ে অক্সিজেনের সরবরাহ লাইনে ছিদ্র বা লিকেজের কারণে চার মাস বয়সী এক নবজাতকের প্রাণহানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ‘শ্যামলী বেবি কেয়ার’ নামের একটি নিরাময় কেন্দ্রে এই বেদনাদায়ক ঘটনাটি ঘটে।
মারা যাওয়া শিশুটির পিতা মো. ফারুক এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর জন্য সরাসরি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি এবং অক্সিজেন লাইনের ত্রুটিকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, তার সন্তানের চিকিৎসা চলাকালীন আকস্মিকভাবে একটি বিকট আওয়াজে বিস্ফোরণ ঘটে এবং এর পরপরই শিশুটি মারা যায়। তবে হাসপাতাল প্রশাসন এই অভিযোগটি সরাসরি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। জানা গেছে, হাম সংক্রান্ত পরবর্তী কিছু শারীরিক জটিলতা নিয়ে শিশুটি গত পাঁচ দিন ধরে সেখানে ভর্তি ছিল।
এই বিষয়ে ওই সময়ে কর্তব্যরত একজন চিকিৎসক নিজের পরিচয় গোপন রাখার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস বা ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। ঠিক যখন শিশুটির বাবার সাথে তার বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা বলা হচ্ছিল, তখনই বাইরে একটি বিকট শব্দ শোনা যায়। পরবর্তীতে জানা যায় যে অক্সিজেনের লাইনে ফুটো হয়ে গ্যাস বের হচ্ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (এইচডিইউ) স্থানান্তর করে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি এবং কিছুক্ষণ পরেই সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই গ্যাস লিকেজের ঘটনার পর সুরক্ষার স্বার্থে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাকি পাঁচটি শিশুকে দ্রুত একই ভবনের ওপরের তলায় অবস্থিত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শরীফ জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে বিস্ফোরণের কথা বলা হলেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ তেমন কোনো অকাট্য আলামত খুঁজে পায়নি। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস লিকেজ হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার যদি এই ঘটনায় কোনো লিখিত এজাহার বা অভিযোগ দায়ের করে, তবে পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।