শনিবার, 24 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ইরানের মসনদে মোজাহেদিন-ই-খালককে বসাতে ছক কষছে ওয়াশিংটন

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে নানা সমীকরণ মেলানো হচ্ছে, তখন ক্ষমতার দৃশ্যপটে প্রবলভাবে আবির্ভূত হয়েছে কয়েক দশক ধরে পর্দার আড়ালে থাকা গোষ্ঠী 'মোজাহেদিন-ই-খালক' (এমইকে)। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাসিত এই সংগঠনটি এখন ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের ওপর তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিনিয়োগের সুফল পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

ইরানের মসনদে মোজাহেদিন-ই-খালককে বসাতে ছক কষছে ওয়াশিংটন
ছবিঃ সংগৃহীত

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে নানা সমীকরণ মেলানো হচ্ছে, তখন ক্ষমতার দৃশ্যপটে প্রবলভাবে আবির্ভূত হয়েছে কয়েক দশক ধরে পর্দার আড়ালে থাকা গোষ্ঠী 'মোজাহেদিন-ই-খালক' (এমইকে)। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাসিত এই সংগঠনটি এখন ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের ওপর তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিনিয়োগের সুফল পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

ইরানের সাবেক শাহের পুত্র রেজা পাহলভি যখন প্রবাসী ইরানিদের আবেগ ও জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন, এমইকে তখন সুকৌশলে মার্কিন রাজনীতির অন্দরমহলে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ‘সন্ত্রাসবাদী’ তালিকায় থাকা এই গোষ্ঠীটি ২০১২ সালে সেই তকমা মুছতে সক্ষম হয়। তথ্যমতে, নিজেদের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে তারা সাবেক মার্কিন সিনেটর রবার্ট টরিসেলির লবিং ফার্মকে প্রায় ২৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থ প্রদান করেছে। এছাড়া মাইক পম্পেও, রুডি জিউলিয়ানি এবং নিউট গিংরিচের মতো প্রভাবশালী মার্কিন রাজনীতিকদের নিজেদের বলয়ে টানতে সক্ষম হয়েছে তারা।

খামেনির প্রয়াণের পর ফ্রান্সভিত্তিক এমইকে নেত্রী মারিয়াম রাজভি একটি ধর্মনিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই উদ্যোগকে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা প্রকাশ্যে সমর্থন জানাচ্ছেন। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর মতে, ইরানের বর্তমান গণতান্ত্রিক বিরোধী দল নেতৃত্ব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। অন্যদিকে, রুডি জিউলিয়ানি সরাসরি রেজা পাহলভির সমালোচনা করে তাকে অস্থিতিশীলতার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

এমইকের বার্ষিক ‘ফ্রি ইরান’ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন রাজনীতিকদের বিশাল অঙ্কের অর্থ দেওয়ার অভিযোগও বেশ পুরনো। জানা গেছে, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ২০২১ সাল থেকে এই গোষ্ঠীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ৪ লাখ ডলারের বেশি সম্মানী পেয়েছেন। এমনকি সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনও ২০১৭ সালে একটি সমাবেশে যোগ দিয়ে ৪০ হাজার ডলার গ্রহণ করেছিলেন। তবে রুডি জিউলিয়ানি দাবি করেছেন, তিনি কোনো অর্থের বিনিময়ে নয়, বরং একটি ‘মহৎ উদ্দেশ্য’ সফল করতেই এই গোষ্ঠীকে সমর্থন দিচ্ছেন।

গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক শাখা এনসিআরআই-এর প্রতিনিধি আলিরেজা জাফরজাদেহ জানিয়েছেন, তারা আমেরিকার কাছে অর্থ বা সৈন্য চান না; বরং তাদের দাবি হলো ইরানি জনগণের ‘বিপ্লবী ইউনিটগুলোকে’ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া, যাতে তারা ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে পারে।

বর্তমানে এমইকের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন রেজা পাহলভি। তিনি নিজেকে ইরানের একমাত্র ঐক্যবদ্ধ শক্তি হিসেবে প্রচার করছেন এবং মার্কিন গণমাধ্যমগুলোতে নিয়মিত উপস্থিত হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রশংসা করছেন। এখন প্রশ্ন হলো, খামেনি-পরবর্তী ইরানে কার হাতে নাটাই যাবে— পাহলভির রাজতন্ত্র নাকি এমইকের প্রস্তাবিত ছায়া সরকার? এই উত্তর এখন অনেকটাই নির্ভর করছে হোয়াইট হাউসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। ৪৭ বছরের রাজনৈতিক অচলাবস্থার পর ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে ওয়াশিংটনে এখন এক জটিল ‘পাওয়ার গেম’ চলছে।