বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

জামালপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা নস্যাৎ, পাহারায় বিজিবি ও এলাকাবাসী

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটানোর একাধিক চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

জামালপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা নস্যাৎ, পাহারায় বিজিবি ও এলাকাবাসী
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটানোর একাধিক চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

সীমান্ত পার করে দেওয়ার এমন খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মসজিদের মাইকে সতর্কবার্তা জারি করা হয়। এরপরই লাঠিসোঁটা ও দেশীয় বিভিন্ন সরঞ্জাম হাতে নিয়ে বিজিবির পাশাপাশি পাহারায় নেমে পড়েন সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর বাসিন্দারা।

সোমবার ভোরে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর পাররামপুর ইউনিয়নের উত্তর রহিমপুরসহ পাশ্ববর্তী সীমান্ত এলাকাগুলোতে এই ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ভোরের দিকে দেওয়ানগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে কিছু মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার তৎপরতা চালায় বিএসএফ। বিশেষ করে উত্তর রহিমপুর গ্রামের ঠিক বিপরীতে সীমান্তের ১০৮০ নম্বর মেইন পিলার সংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় কিছু গাড়ি ও বিএসএফ জওয়ানদের সন্দেহজনক উপস্থিতি লক্ষ্য করেন গ্রামবাসীরা। এর পরপরই মাইকিংয়ের মাধ্যমে সবাইকে সচেতন করা হলে সাধারণ মানুষ সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির সহায়তায় এগিয়ে আসেন এবং তাদের সাথে একাত্ম হয়ে পাহারায় যোগ দেন।

এর আগে রবিবার রাত ১১টার দিকেও জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ রৌমারীর বড়াইবাড়ী সীমান্তে অনুরূপ একটি ঘটনার সূত্রপাত হয়। সেখানে অন্তত আটজন মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা চালায় বিএসএফ। এই খবর জানাজানি হওয়া মাত্রই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গ্রামবাসীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে দ্রুত সীমান্তে অবস্থান নেন। বিজিবি ও সাধারণ মানুষের এমন সম্মিলিত প্রতিরোধ ও কঠোর নজরদারির মুখে শেষ পর্যন্ত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সেই চেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান জানান, তাদের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা দিয়ে বেআইনিভাবে পুশইনের অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, তবে স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ ও সহযোগিতায় সেটি সফলভাবে নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও টহল কার্যক্রম আগের চেয়ে বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে সীমান্তে বড় ধরনের কোনো সংকট বা উদ্বেগজনক পরিস্থিতি না থাকলেও, যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা পুশইনের অপতৎপরতা রুখে দিতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।