নির্বাচনের ময়দানে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে যাচ্ছে—জামায়াত নেতৃত্বাধীন আসন সমঝোতার জোটে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ লেবার পার্টি। এতে আবারও ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ রূপ নিতে যাচ্ছে বর্তমান ১০ দলীয় জোট।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গঠিত ১১ দলীয় জোট থেকে হঠাৎ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বেরিয়ে গেলে তা ১০ দলীয় ঐক্যে পরিণত হয়। এবার ইসলামী আন্দোলনের জায়গায় যুক্ত হতে যাচ্ছে লেবার পার্টি—এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা ও লেবার পার্টির সভাপতি ড. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান।
১০ দলীয় জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ড. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, “কথাবার্তা চলছে।” তিনি জানান, নিজে নির্বাচনে না থাকলেও তার দলের ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আসন সমঝোতা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা সম্ভব নয়। “হয়তো আজ বা কাল আপনারা জানতে পারবেন,” বলেন তিনি।
ইসলামপন্থি দলগুলোর ঐক্য নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এ বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি বরিশাল সফরে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান চরমোনাই পীর সৈয়দ রেজাউল করিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। যৌথ ব্রিফিংয়ে তারা ঐক্যের জন্য দোয়া চান এবং বলেন, ইসলামী দলগুলো ভোটকেন্দ্রে একটি বাক্স পাঠানোর চেষ্টা করছে।
এরপর জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ আট দল নিয়ে যাত্রা শুরু হয় একটি জোটের। পরে এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টি যুক্ত হলে তা ১১ দলীয় রূপ নেয়। তবে শেষ মুহূর্তে ইসলামী আন্দোলন বেরিয়ে গেলে জোটটি হয়ে যায় ‘১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’।
এবার আবার ১১ দলীয় জোটে পরিণত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ড. হামিদুর রহমান আযাদ। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় এক পথসভায় তিনি বলেন, “আজ আমাদের ১০ দল… কাল আরও একটি দল যুক্ত হবে। তখন আমরা ১১ দলীয় ঐক্য।”
যদিও তিনি দলের নাম উল্লেখ করেননি, সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে—লেবার পার্টিই নতুন শরিক হতে যাচ্ছে। বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিনের মিত্র হলেও প্রত্যাশিত আসন না পাওয়ায় আগেই বিএনপির সঙ্গ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিল দলটি।
জামায়াতের মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “কথাবার্তা হচ্ছে। অন্তত একটি দল নিশ্চিতভাবে যুক্ত হচ্ছে। এখন সরাসরি আসন সমঝোতা সম্ভব না হলেও রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে।”
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। মনোনয়ন ও প্রতীক বরাদ্দের সব প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, আর ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।
প্রায় দুই হাজার প্রার্থী এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মূল লড়াই হবে দুটি বড় রাজনৈতিক জোটের মধ্যে—একদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট, অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ‘১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’, যা খুব শিগগিরই আবার ‘১১ দলীয় ঐক্য’তে রূপ নিতে যাচ্ছে।