বিগত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী ফোরাম বা সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে আজ থেকে সাক্ষ্য নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই চাঞ্চল্যকর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারিত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউশন উইং থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, আদালতের কার্যক্রমের শুরুতেই রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলার আনুষ্ঠানিক সূচনা বক্তব্য বা ওপেনিং স্টেটমেন্ট উপস্থাপন করবে। এর পরপরই প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রমের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ধাপটি শুরু হতে যাচ্ছে।
পূর্বে এই বিচারিক প্রক্রিয়াটি গত ১৭ জুন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তা পুনর্বিবেচনা করে আজকের দিনটি পুনর্নির্ধারণ করেন।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে আনীত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে তাদের বিচার শুরুর স্পষ্ট আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল-১।
রাষ্ট্রপক্ষের দায়ের করা তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারকে যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে এই দুই রাজনৈতিক নেতা বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্য ও নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তারা আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষস্থানীয় পদে আসীন থেকে রাজপথের নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহারের প্ররোচনা এবং কারফিউ জারির মতো কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তাদের সুপরিকল্পিত ও ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। যার ফলশ্রুতিতে রাজধানীর বাড্ডাসহ সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ২৩ জন নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং অসংখ্য সাধারণ নাগরিক গুরুতরভাবে আহত হন।