বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

‘কেউ এখানে চ্যারিটি লিগ খেলতে আসেনি’

মিরপুরে বাংলাদেশ–পাকিস্তান ম্যাচ শেষ হলেও সালমান আলি আঘার বিতর্কিত রানআউট নিয়ে আলোচনা থামেনি। নিয়ম মেনে মেহেদী হাসান মিরাজ যে রানআউটটি করেন, সেটি নিয়ে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা খেলোয়াড়ি মনোভাব প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তবে বাংলাদেশের ব্যাটার লিটন কুমার দাস স্পষ্ট জানিয়ে দেন—এটি কোনো দাতব্য প্রতিযোগিতা নয়, আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিয়মই শেষ কথা।

‘কেউ এখানে চ্যারিটি লিগ খেলতে আসেনি’

মিরপুরে বাংলাদেশ–পাকিস্তান ম্যাচ শেষ হলেও সালমান আলি আঘার বিতর্কিত রানআউট নিয়ে আলোচনা থামেনি। নিয়ম মেনে মেহেদী হাসান মিরাজ যে রানআউটটি করেন, সেটি নিয়ে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা খেলোয়াড়ি মনোভাব প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তবে বাংলাদেশের ব্যাটার লিটন কুমার দাস স্পষ্ট জানিয়ে দেন—এটি কোনো দাতব্য প্রতিযোগিতা নয়, আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিয়মই শেষ কথা।

শুক্রবার মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তানের ইনিংসের ৩৯তম ওভারে এই ঘটনা ঘটে। সে সময় মোহাম্মদ রিজওয়ান মিরাজের বলে ফ্লিক করে সোজা সামনে ঠেলে দেন। বলটি থামানোর চেষ্টা করেন মিরাজ, আর তখনই সালমান ক্রিজের অনেকটা সামনে অবস্থান করছিলেন। বোঝা যাচ্ছিল, বলটি আটকানো না গেলে তিনি দ্রুত রান নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

মিরাজ বল ধরতে গিয়ে সালমানের সঙ্গে হালকা ধাক্কা খেলেও সেটি থামাতে সক্ষম হন। এরপর সালমানের পায়ের কাছে থাকা বল তুলে স্টাম্পে ছুঁড়ে মারেন। ঠিক সেই সময় সালমানও লাইভ থাকা বলটি হাতে ধরার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি ক্রিজের অনেক বাইরে থাকায় আম্পায়ার নিয়ম অনুযায়ী তাকে আউট ঘোষণা করেন।

আউট হওয়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন সালমান। তিনি হেলমেট ছুঁড়ে মারেন এবং চিৎকার করে গালিগালাজ করতে দেখা যায়। সেই মুহূর্তে লিটনের সঙ্গেও তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।

ঘটনার সময় ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে রমিজ রাজা বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী আউট হলেও স্পোর্টসম্যানশিপ এখানে তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যাটার বোলারকে সাহায্য করতে গিয়েছিলেন। তাঁকে আউট করা হবে—এটা তিনি প্রত্যাশা করেননি।”

তবে ম্যাচ শেষে ব্রডকাস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লিটন এই সমালোচনার জবাব দেন। বাংলাদেশের টি–টোয়েন্টি অধিনায়ক বলেন, “প্রথমত, কেউ এখানে চ্যারিটি লিগ খেলতে আসেনি, এটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। যেহেতু নিয়মে আউট আছে, আমি কোনো দিক থেকেই দেখি না যে এখানে স্পোর্টসম্যানশিপ নষ্ট হয়েছে। যে যার ব্যক্তিগত মতামত দিতেই পারেন। খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের মনে হয়েছে—আউট তো আউটই।”

ম্যাচের শুরুতে ব্যাট হাতে দারুণ অবস্থানে ছিল পাকিস্তান। ওপেনিং জুটিতে শতরান আসে, এরপর রিজওয়ান ও সালমান মিলে গড়েন আরেকটি শতরানের জুটি। এক সময় মনে হচ্ছিল তাদের সংগ্রহ ৩০০ ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু সালমানের রানআউটের পর পাকিস্তানের ইনিংসে ধস নামে এবং শেষ পর্যন্ত তারা ২৭৪ রানে অলআউট হয়।

বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে রান তাড়ায় নামার পর বাংলাদেশের ব্যাটিংও ভেঙে পড়ে। স্বাগতিকরা মাত্র ১১৪ রানে অলআউট হয়ে ১২৮ রানে ম্যাচ হারে। বাংলাদেশের হয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন লিটন দাস, তিনি ৩২ বলে ৪১ রান করেন।

লিটনের মতে, বৃষ্টির কারণে খেলা বিঘ্নিত না হলে ম্যাচের ফল ভিন্নও হতে পারত।