বৃহস্পতিবার, 22 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

মাধবপুরে ভিজিএফের চাল নিয়ে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ

হবিগঞ্জের মাধবপুরে ভিজিএফের চাল আত্মসাতের অভিযোগে এক যুবদল নেতাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। উপজেলার আদাঐর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম সরদারের বিরুদ্ধে ৪-৫ বস্তা চাল জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন খোদ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম।

মাধবপুরে ভিজিএফের চাল নিয়ে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ
ছবিঃ সংগৃহীত

হবিগঞ্জের মাধবপুরে ভিজিএফের চাল আত্মসাতের অভিযোগে এক যুবদল নেতাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। উপজেলার আদাঐর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম সরদারের বিরুদ্ধে ৪-৫ বস্তা চাল জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন খোদ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম।

বুধবার এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মাধবপুর উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট নেতার কাছে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে দলীয়ভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার, যখন আদাঐর ইউনিয়নে ৭১১ জন কার্ডধারীর মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হচ্ছিল। চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, কাইয়ুম সরদার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কয়েক বস্তা চাল লুট করে নিয়ে গেছেন, যার ফলে সাধারণ উপকারভোগীদের চালের পরিমাণে ঘাটতি দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে রহস্য দানা বাঁধে যখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে চেয়ারম্যান সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য প্রদান করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে, চাল বিতরণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনো অনিয়ম ঘটেনি।

চেয়ারম্যানের এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের একটি পক্ষের মতে, কাইয়ুম সরদার রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার, কারণ তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো ঘাটতি দেখানো হয়নি। অন্যদিকে, অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন যে তারা ওজনে কম চাল পেয়েছেন। অভিযুক্ত যুবদল নেতা আব্দুল কাইয়ুম সরদার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, মূলত ৪১ বস্তা চাল পাচারের একটি চেষ্টা তিনি নস্যাৎ করতে চেয়েছিলেন বলেই তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে দলের হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম তার দ্বিমুখী অবস্থানের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, দাপ্তরিক প্রতিবেদনে অনেক কিছু সরাসরি লেখা সম্ভব হয় না। তিনি যুবদল নেতার আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতে সময় চেয়েছেন। এদিকে, মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা ইকরাম জানিয়েছেন, ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি এবং দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় এই অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।