বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

নবীনগরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার ও পুরোনো শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

নবীনগরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০
ছবি : সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার ও পুরোনো শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে লিপ্ত হওয়া এই সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত দশজন আহত হয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের টিয়ারা গ্রাম ও সংলগ্ন বাজার এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।

এলাকাবাসী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, টিয়ারা গ্রামে নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখা নিয়ে আতিকুর রহমান ওরফে শিশু মিয়া এবং একই অঞ্চলের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে কোন্দল চলছিল। এই শত্রুতার জেরে গত কয়েকদিন ধরেই পুরো গ্রামজুড়ে এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

সূত্র জানায়, পুরোনো রেষারেষির সূত্র ধরে এক পক্ষের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত সোমবার রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য বাছির মিয়ার বাসভবনে প্রথম দুই পক্ষের সমর্থকেরা সংঘর্ষে জড়ায়। সেই রাতের ঘটনার জের ধরে আজ সকালে উভয় পক্ষের লোকজন দা, ছুরি, টেঁটা, বল্লমসহ বিভিন্ন ধরনের মারাত্মক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে টিয়ারা বাজারে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সাড়ে দশটা পর্যন্ত চলা এই রণক্ষেত্রে পুরো বাজার এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালীন বাজারের বেশ কিছু দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

সহিংসতার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং সকাল সাড়ে দশটার দিকে পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এই দ্বন্দ্বে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন কমবেশি জখম হয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে আবুল হোসেনের শিবিরের আহমেদ হোসেন দাবি করেন, বাজারে অবস্থানরত তাদের লোকজনের ওপর আতিকুর রহমানের অনুসারীরা অতর্কিতভাবে অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়। তারা কেবল নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু প্রতিপক্ষের লোকেরা বাজারের একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তাণ্ডব ও লুটপাট চালায়।

অন্যদিকে আতিকুর রহমান পাল্টা অভিযোগ করে জানান, আবুল হোসেনের লোকবলই প্রথম তার ওপর চড়াও হয়েছিল। তারা তাদের পক্ষের এক ব্যক্তিকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। তাদের দলের সদস্যরা কেবল নিজেদের জীবন বাঁচাতে প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিলেন।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোরশেদ আলম চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রামে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার কোন্দল থেকেই এই মারামারির সূত্রপাত। তবে বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত ও পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নতুন করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।