দিল্লির একটি বহুতল ভবন থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার এক নারী শিক্ষকের নিথর দেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রাণ হারানো ওই নারীর নাম দেবস্মিতা পাল, যিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একে একটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে ঘর থেকে কোনো ধরনের মূল্যবান সামগ্রী, অর্থ বা অলংকার খোয়া না যাওয়ায় এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য বা শত্রুতা কাজ করেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, পূর্ব দিল্লির বসুন্ধরা এনক্লেভ এলাকার ‘সত্যম অ্যাপার্টমেন্ট’-এর একটি ফ্ল্যাটে ওই শিক্ষিকা একাকী বসবাস করতেন এবং তাঁর জীবনসঙ্গী কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরুতে অবস্থান করছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে নিউ অশোক নগর থানায় এই বিষয়ে একটি জরুরি তথ্য আসে। নিহত দেবস্মিতার বড় বোন দেবরতি পাল পুলিশকে জানান যে, তাঁর বোনের ঘরের ভেতর রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে রয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, গতকাল সকাল থেকেই দেবস্মিতার ঘরের দরজায় বাইরের দিক থেকে তালা ঝুলছিল। বোন দেবরতি দীর্ঘ সময় মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এতে তিনি শঙ্কিত হয়ে সত্যম অ্যাপার্টমেন্টে ছুটে যান এবং একপর্যায়ে তালা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে বোনকে নিথর অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।
খবর পেয়ে পুলিশ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে স্থানীয় এলবিএস হাসপাতালে পাঠায়। সুরতহাল রিপোর্টের ভিত্তিতে কর্মকর্তারা জানান, দেবস্মিতার মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা দেখে ধারণা করা হচ্ছে কোনো ভারী বস্তু দিয়ে সেখানে আঘাত করা হয়েছে। এছাড়া তাঁর হাতের কবজির রগও কাটা ছিল।
দিল্লি পুলিশ এই ঘটনায় একটি খুনের মামলা নথিভুক্ত করেছে। নৃশংস এই অপরাধের মূল কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে ইতিমধ্যে পুলিশের বেশ কয়েকটি বিশেষ দল মাঠে নেমেছে।