সোমবার, 21 সেপ্টেম্বর 2026
সকল বিভাগ

পাঁচ দশকে নদীগর্ভে ১,৫৮৫ বর্গকিমি জমি, বস্তিগুলোতে দীর্ঘ হচ্ছে বাস্তুহারা মানুষের তালিকা

নদীভাঙনে গত পাঁচ দশকে যমুনা, গঙ্গা ও পদ্মার পেটে চলে গেছে দেশের প্রায় ১ হাজার ৫৮৫ বর্গকিলোমিটার জমি। সরকারি হিসাবে, এই আয়তন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্মিলিত আয়তনের পাঁচ গুণেরও বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৪৩৩ বর্গকিলোমিটার জমি পরবর্তী সময়ে চর হিসেবে জেগে উঠলেও স্থায়ীভাবে হারিয়ে গেছে প্রায় ১ হাজার ১৫৩ বর্গকিলোমিটার।

পাঁচ দশকে নদীগর্ভে ১,৫৮৫ বর্গকিমি জমি, বস্তিগুলোতে দীর্ঘ হচ্ছে বাস্তুহারা মানুষের তালিকা
ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে নদীর পানে চেয়ে এক ভুক্তভোগী নারী। ছবি: সংগ্রহীত

নদীভাঙনে গত পাঁচ দশকে যমুনা, গঙ্গা ও পদ্মার পেটে চলে গেছে দেশের প্রায় ১ হাজার ৫৮৫ বর্গকিলোমিটার জমি। সরকারি হিসাবে, এই আয়তন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্মিলিত আয়তনের পাঁচ গুণেরও বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৪৩৩ বর্গকিলোমিটার জমি পরবর্তী সময়ে চর হিসেবে জেগে উঠলেও স্থায়ীভাবে হারিয়ে গেছে প্রায় ১ হাজার ১৫৩ বর্গকিলোমিটার।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানিয়েছে।


নদীভাঙনে জমি হারানোর পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত হচ্ছে অসংখ্য পরিবার। নতুন চর জাগলেও সেগুলো স্থায়ী বসতি হিসেবে টিকে থাকে না। ফলে বারবার ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক মানুষ শেষ পর্যন্ত গ্রাম ছেড়ে শহরমুখী হন।

শহরে এসে শিক্ষা ও দক্ষতার অভাবে তাদের বড় একটি অংশ অনিয়মিত পেশায় যুক্ত হন। কেউ দিনমজুর, কেউ গৃহকর্মী, আবার কেউ রিকশাচালক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের অনেকেই শহরের নিচু ও বন্যাপ্রবণ বস্তিতে আশ্রয় নেন, যেখানে আগে থেকেই নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত মানুষের বসতি রয়েছে।

ঢাকার পল্লবীর ভোলার বস্তিই এর একটি উদাহরণ। সেখানে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করেন। তাদের অধিকাংশই ভোলা জেলার নদীভাঙন ও বন্যায় ঘরবাড়ি ও সম্পদ হারিয়ে ঢাকায় এসেছেন।

অভিবাসন গবেষকদের মতে, ঢাকার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত মানুষের ঘনবসতি রয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর-১২, মোল্লা বস্তি ও দুয়ারীপাড়া উল্লেখযোগ্য। নদীতীরের ভিটেমাটি হারানো মানুষ এসব এলাকায় এসে আশ্রয় নেওয়ায় নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় দারিদ্র্যের ঘনত্বও বেড়েছে।

নদী কেড়ে নিয়েছে ইব্রাহিমের সব

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চরগিলাবাড়ি গ্রামের ইব্রাহিম মিয়ার ছিল যমুনার তীরে তিন একরের বেশি জমি। সেখানে আখ, বাদাম ও ধান চাষ করতেন তিনি।

গত সপ্তাহে ঢাকার কারওয়ান বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে নিজের জীবনের কথা বলছিলেন ইব্রাহিম। তিন সন্তানকে নিয়ে একসময় ভালোই চলছিল তার সংসার। কিন্তু নদী ধীরে ধীরে তার জমি ও বসতভিটা—দুটিই কেড়ে নেয়।


সব হারিয়ে পরিবার নিয়ে গাইবান্ধায় মামার বাড়িতে চলে যান তিনি। সেখানে খেতমজুরি ছাড়া তেমন কোনো কাজের সুযোগ ছিল না। কিন্তু শারীরিকভাবে সেই কাজ করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। তার ভাষায়, ‘আমার তো একটা সম্মান ছিল।’

২০০৯ সালে গ্রামের এক ব্যক্তির সঙ্গে ঢাকায় চলে আসেন ইব্রাহিম। এরপর থেকে কারওয়ান বাজারের পাইকারি সবজি বাজারে জনমজুরের কাজ করছেন। প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকা আয় হয় তার। এর মধ্যে প্রায় ১৫০ টাকা খাওয়া ও থাকার পেছনে ব্যয় করতে হয়।

তারপরও পুরোনো জমির টান ছাড়েননি ইব্রাহিম। তিনি বলেন, যমুনায় তার জমি আবার জেগে উঠবে—এই আশাতেই আছেন। পলি জমে জমি জেগে উঠলে তিনি আবার জামালপুরে ফিরে যেতে চান।

কত মানুষ বাস্তুচ্যুত?

নদীভাঙনের কারণে দেশে মোট কত মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, তার নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান নেই।

সিইজিআইএসের নদী, বদ্বীপ ও উপকূলের ভূমিরূপবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ সুদীপ্ত কুমার হোড়ের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি এক বর্গকিলোমিটার নদীভাঙনে গড়ে প্রায় এক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।

জলবায়ু গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের প্রতি সাতজনের একজন বাস্তুচ্যুত হতে পারেন। এর মধ্যে নদীভাঙনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের হার মোট বাস্তুচ্যুতির প্রায় ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে।

সরকারের কাছেও নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত মানুষের পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য ২০১৯ সালের। ওই বছর নয়টি জেলায় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে ২৪ হাজার ৩২৮টি পরিবারকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।


জেলাগুলো হলো—দিনাজপুর, জামালপুর, মুন্সিগঞ্জ, শেরপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, চাঁদপুর, ময়মনসিংহ ও শরীয়তপুর।

২০১৯ সালে নদীভাঙনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩৬৬ কোটি টাকা হিসাব করা হয়েছিল। তবে এই পরিসংখ্যানে দেশের সব নদী ও সব জেলা অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

বেসরকারি গবেষণায় ভাঙনের পরিমাণ আরও বেশি বলে উঠে এসেছে। লেখক মোহাম্মদ জামান ও মোস্তফা আলম তাদের ২০২০ সালের ‘লিভিং অন দ্য এজ: চর ডুয়েলার্স অব বাংলাদেশ’ বইয়ে উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার জমি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। অন্যান্য গবেষণাতেও কাছাকাছি তথ্য পাওয়া গেছে।

কমেছে ভাঙনের হার

২০০৪ সাল থেকে যমুনা, পদ্মা ও গঙ্গার নদীভাঙনের পূর্বাভাস দিয়ে আসছে সিইজিআইএস। বর্ষা শুরুর আগে ধারণ করা স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এসব পূর্বাভাস তৈরি করা হয়।

সিইজিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ দশকে এই তিন নদীতে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৩০ বর্গকিলোমিটার জমি ভেঙেছে।

তবে সময়ের সঙ্গে ভাঙনের প্রবণতা কমেছে। ১৯৮০-এর দশকে যমুনায় প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৫০ বর্গকিলোমিটার জমি বিলীন হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা কমে প্রায় ১৫ বর্গকিলোমিটারে নেমেছে।

পদ্মায় ১৯৯০-এর দশকে বছরে গড়ে প্রায় ২৩ বর্গকিলোমিটার জমি ভাঙত। গত এক দশকে সেই হার কমে বছরে ১০ বর্গকিলোমিটারের নিচে নেমেছে।

১৯৯৫ সালে যমুনা, পদ্মা ও গঙ্গা মিলিয়ে প্রায় ৯৫ বর্গকিলোমিটার জমি নদীতে চলে যায়। এর মধ্যে যমুনায় ৪৭, পদ্মায় ৩৬ এবং গঙ্গায় ১২ বর্গকিলোমিটার জমি ভেঙেছিল।


২০২৫ সালে তিন নদীতে সম্মিলিত ভাঙন নেমে আসে ১০ দশমিক ৩৪ বর্গকিলোমিটারে। এর মধ্যে গঙ্গায় ৫ দশমিক ৯৩, যমুনায় ৩ দশমিক ৪৮ এবং পদ্মায় শূন্য দশমিক ৯৩ বর্গকিলোমিটার জমি বিলীন হয়।

১৯৭৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি জমি ভেঙেছে যমুনা। এই সময়ে নদীটি ৯৪২ দশমিক ২০ বর্গকিলোমিটার জমি গ্রাস করেছে, যা তিন নদীর মোট ভাঙনের প্রায় ৬০ শতাংশ।

একই সময়ে গঙ্গায় ভেঙেছে ৩০২ দশমিক ৯ বর্গকিলোমিটার এবং পদ্মায় ৩৩৮ দশমিক ৪৩ বর্গকিলোমিটার জমি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর গঙ্গাকে সাধারণভাবে পদ্মা বলা হলেও সরকারি হিসাবে ওই অংশে নদীটির নাম গঙ্গাই।

যৌথ নদী কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, শিবগঞ্জ দিয়ে প্রবেশের পর গঙ্গা ২১৬ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার সঙ্গে মিলিত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা নামে পরিচিত হয়। এরপর আরও প্রায় ১০০ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরের কাছে আপার মেঘনায় মিশেছে।

সামনে আরও ৯ দশমিক ১৫ বর্গকিলোমিটার ভাঙনের আশঙ্কা

সিইজিআইএসের এই গবেষণায় দেশের অন্যান্য নদীর ভাঙন অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির এ বছরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আরও ৯ দশমিক ১৫ বর্গকিলোমিটার জমি নদীতে বিলীন হতে পারে।

গাইবান্ধা, জামালপুর, কুড়িগ্রাম, পাবনা, কুষ্টিয়া ও ফরিদপুরের ১১টি এলাকায় সম্ভাব্য এই ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। এতে ৭৩টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে চারটি স্কুল, তিনটি মসজিদ, একটি ক্লিনিক ও কয়েকটি সড়ক রয়েছে।

তবে ১০০ মিটারের কম এলাকার সম্ভাব্য ভাঙন সিইজিআইএসের পূর্বাভাসে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।

পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ঝুঁকিপূর্ণ নদীতীরে মূলত বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করে।

তারপরও প্রতি বছর নদীভাঙনের শিকার হয়ে হাজার হাজার মানুষ জমি ও বসতভিটা হারাচ্ছেন।

পদ্মার পাড়ে টিকে থাকার লড়াই

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কাঠুরিয়া গ্রামেও নদীভাঙনের ভয়াবহতা স্পষ্ট। পদ্মার তীরে এখনও প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি পরিবার বসবাস করছে।

মনসুরা বেগমের বাড়ির পেছনের সড়ক ইতোমধ্যে নদীতে চলে গেছে। তিনি জানান, কয়েক বছর আগেও তাদের বাড়ি থেকে পদ্মা ছিল প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে। গত বছর নদী তাদের জমির কাছাকাছি চলে আসে।

চলতি বছর মাত্র ১০ দিন আগে নদী তার বাড়ির উঠানের অর্ধেক গ্রাস করেছে। এরপর পুরোনো ঘর থেকে খুলে আনা ঢেউটিন দিয়ে স্বামী মজিদ ঘোরামীর সঙ্গে নতুন একটি অস্থায়ী ঘর তৈরি করেছেন তিনি।


মনসুরা বলেন, দিনের বেলায় ভাঙন শুরু হয়। গ্রামের মানুষ এসে তাদের ঘর খুলে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে সহায়তা করেছেন।

সম্প্রতি ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ৪০ জন শ্রমিক নদীতীরে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলছেন। এই উদ্যোগে আপাতত মনসুরার বাড়ির উঠানের অবশিষ্ট অংশটুকু রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

তবে পাশের মাঝেরকান্দি গ্রামের মানুষকে এতটা সৌভাগ্যবান বলা যায় না। পুরো গ্রামটিই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পরে বাসিন্দারা সরকারি জমিতে গিয়ে আশ্রয় নেন।

তিনবার বদলেছে মাঝেরকান্দির ঠিকানা

পদ্মার তীরের একটি চায়ের দোকানে বসে নিজের গ্রামের হারিয়ে যাওয়ার গল্প বলছিলেন মাঝেরকান্দির প্রবীণ বাসিন্দা ওয়াহাব খান। তার জীবদ্দশাতেই তিনবার স্থান পরিবর্তন করেছে গ্রামটি।

প্রায় ৪০ বছর আগে নদীর অপর পাড়ে থাকা পুরোনো মাঝেরকান্দি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। তখন গ্রামের মানুষ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েন।

এর প্রায় ২৫ বছর পর নদীর মাঝখানে একটি চর জেগে উঠলে সেখানে আবার বসতি স্থাপন করেন তারা। নতুন চরটির নামও রাখা হয় মাঝেরকান্দি। কিন্তু সাত বছর আগে সেই চরও নদীতে হারিয়ে যায়।


এরপর বাসিন্দারা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন জমিতে গিয়ে বসতি গড়েন। তবে মাঝেমধ্যে সেতু কর্তৃপক্ষ তাদের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ দেয়।

প্রতিবার বসতি সরানোর সঙ্গে সঙ্গে তাদের নতুন করে জীবন শুরু করতে হয়েছে। নতুন জায়গায় জমি চাষের পাশাপাশি আম, কাঁঠাল, জাম, লিচু, নারকেল ও মাল্টার গাছ লাগিয়েছেন তারা।

ওয়াহাব বলেন, সবাই এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছে। এখন শুধু চেষ্টা করি কিছু আয় করতে, যাতে ঋণের কিস্তি দিতে পারি।

মাঝেরকান্দির আরেক বাসিন্দা আবদুর রশিদ ব্যাপারী জানান, একসময় নিজেদের জমি থেকে তার পরিবার বছরে ২০০ মণ ধান পেত। এখন তার দুই ছেলে দিনমজুরি করে যে অর্থ আয় করেন, সেটিই পরিবারের প্রধান ভরসা।

কারওয়ান বাজারের ইব্রাহিমের মতো মাঝেরকান্দির বাসিন্দারাও নদীর বুকে হারিয়ে যাওয়া নিজেদের জমি ও গ্রামের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।

ওয়াহাব বলেন, আমরা সবাই অপেক্ষা করছি, পদ্মায় আমাদের গ্রাম আবার জেগে উঠবে। গ্রামটা আবার জেগে উঠলে আমরা সেখানে ফিরে যেতে পারব।


সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার