বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ঐতিহাসিক জয় ফিলিস্তিনকে উৎসর্গ করল মিশর, গাজায় আনন্দের ঢেউ

ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে পরাস্ত করে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে মিশর।

ঐতিহাসিক জয় ফিলিস্তিনকে উৎসর্গ করল মিশর, গাজায় আনন্দের ঢেউ
ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে পরাস্ত করে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে মিশর। আফ্রিকার দলটির এই অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক অর্জনকে ফিলিস্তিনের নিপীড়িত জনগণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান।

শেষ ষোলোর এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয়ের পর কোচের এমন আবেগঘন ও সংহতিপূর্ণ বার্তা পৌঁছানো মাত্রই অবরুদ্ধ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় আনন্দের এক অভূতপূর্ব জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ বত্রিশের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে নির্ধারিত এবং অতিরিক্ত সময় শেষেও মিশর ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ১-১ গোলের সমতা বিরাজ করছিল। পরবর্তীতে খেলার ভাগ্য নির্ধারণে টাইব্রেকারের আশ্রয় নেওয়া হলে সেখানে ৪-২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় মিশর। ম্যাচের শুরুর দিকে ১৩ মিনিটে ইমাম আশুরের দারুণ এক হেডের সাহায্যে লিড নেয় মিশরীয়রা। তবে দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে মোহাম্মদ হানির একটি আত্মঘাতী গোলের কারণে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচটি পেনাল্টি শুটআউটে গড়ায়। সেখানে হোসাম আবদেলমাগুইদের জয়সূচক স্পটকিকের মাধ্যমে উল্লাসে মাতে মিশর। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি সাউতার ও লুকাস হেরিংটন পেনাল্টি মিস করলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ওশেনিয়া অঞ্চলের দেশটি।

খেলা শেষে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে চরম আবেগাপ্লুত হয়ে মিশরের কোচ হোসাম হাসান বলেন, সৃষ্টিকর্তা ফিলিস্তিনিদের বিজয় দান করুন এবং তাদের শহীদদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। এই অনবদ্য জয়টি তিনি মিশরের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের সেই সাহসী ও সম্মানিত জনগণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করছেন। ম্যাচ জয়ের পরপরই মাঠের ভেতরে মিশর ও ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে উদযাপন করতে দেখা যায় এই কোচকে। একই সাথে দলের ফুটবলাররাও ঐতিহাসিক এই মাইলফলক স্পর্শ করার পর মাঠের সবুজ ঘাসে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

মিশরীয় কোচের এই সংহতিপূর্ণ বক্তব্য মুহূর্তের মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই জয়ে উদ্বেলিত হয়ে গাজার অসংখ্য বাসিন্দা ও ফিলিস্তিনি সমর্থকেরা সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে শুরু করেন। গাজার স্থানীয় বাসিন্দা তামের নাহেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তার অনুভূতি প্রকাশ করে লিখেছেন, জীবনে এবারই প্রথম তিনি এত বড় উত্তেজনা নিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপ উপভোগ করছেন। মিশরের এই জয় তাকে ভীষণভাবে আনন্দিত করেছে।

তবে সবচেয়ে মনোরম দৃশ্য ছিল, চারপাশের ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরবাড়ি আর অস্থায়ী তাঁবু থেকে হাজার হাজার মানুষ বের হয়ে এসে দলবদ্ধভাবে বড় পর্দায় খেলা দেখছিলেন এবং গোলের পর সবার মুখে ছিল যৌথ আনন্দ ও উল্লাস। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও চিত্রেও দেখা গেছে, বোমাবর্ষণে কঙ্কালসার হয়ে যাওয়া ভবনের পাশেই বড় স্ক্রিন বসিয়ে শত শত মানুষ খেলা উপভোগ করছেন। অনেক শিশুর গালে ও মুখে আঁকা ছিল মিশরের পতাকার রং। যুদ্ধের চরম ভয়াবহতা আর উৎকণ্ঠার মাঝেও ফুটবলের এই রোমাঞ্চকর জয় ফিলিস্তিনের মানুষের মাঝে কিছুক্ষণের জন্য হলেও স্বস্তি ও অনাবিল আনন্দ ফিরিয়ে এনেছে।