পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সম্মেলন ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন পাওয়ার, ইলেকট্রনিক্স, কমিউনিকেশনস, কম্পিউটিং অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ বা পিইসিসিআইআই ২০২৬ সফলভাবে শেষ হয়েছে।
এবারের আসরে বাংলাদেশসহ বিশ্বের নয়টি দেশের গবেষক, শিক্ষাবিদ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সশরীরে এবং ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হন। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি ছিল যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, ভারত, নেপাল ও থাইল্যান্ডের মতো দেশ। সম্মেলন উপলক্ষে প্রায় ৭০০টি গবেষণাপত্র জমা পড়ে, যা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে যাচাই-বাছাই করার পর নির্বাচিত প্রবন্ধগুলো নিয়ে একাধিক কারিগরি বা টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞরা নিজ নিজ উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির অগ্রগতি তুলে ধরেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মো. শামীমের সরাসরি তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন। পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান। পুরো আয়োজনের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আব্দুর রাজ্জাক।
সম্মেলনের মূল বক্তা হিসেবে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করেন জাপানের ইউনিভার্সিটি অব আইজুর অধ্যাপক ড. জুংপিল শিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে এতে অংশ নেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও আইইইই বাংলাদেশ সেকশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ ইমামুল হাসান ভূঁইয়া, আইইইই ইএমবিএস বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. শেখ আনোয়ারুল ফাত্তাহ এবং আইইইই বাংলাদেশ সেকশনের নমিনেশনস কমিটির চেয়ারম্যান ড. সেলিয়া শাহনাজ। এই মহতী উদ্যোগের টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসেন এবং সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান টি. এইচ. এম. সুমন রশিদ। অন্যদিকে মূল আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলান অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন এবং সদস্য সচিব হিসেবে যুক্ত ছিলেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রহিম।
দুই দিনের এই বিশেষ আয়োজনে বিদ্যুৎ, ইলেকট্রনিক্স, যোগাযোগ ব্যবস্থা, কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং বুদ্ধিদীপ্ত অবকাঠামো সংক্রান্ত সমসাময়িক নানা গবেষণা প্রবন্ধ আলোচিত হয়। একই সাথে বর্তমান বিশ্বের প্রযুক্তির রূপান্তর, সীমাবদ্ধতা ও আগামী দিনের সম্ভাবনা নিয়ে দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞরা নিজেদের মতামত বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানের প্রথমভাগে নিবন্ধন, উদ্বোধনী পর্ব, কর্মশালা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের বক্তব্য এবং দ্বিতীয়ভাগে কারিগরি অধিবেশন, সমাপনী আয়োজন ও নৈশভোজের ব্যবস্থা রাখা হয়।
সমাপনী পর্বে আলোচকেরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মিলন নতুন আবিষ্কার ও বিশ্বব্যাপী প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দেশের আগামী দিনের অগ্রগতি পুরোপুরি নির্ভর করছে গুণগত শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের ওপর। এ কারণে সরকার এই খাতে বরাদ্দ বাড়িয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন গবেষণায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে সুসম্পর্ক তৈরি করবে। সমাপনী বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মো. শামীম মন্তব্য করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজ কেবল পাঠদান নয়, বরং সামাজিক সংকটের প্রযুক্তিগত সমাধান খুঁজে বের করা। তিনি পাবিপ্রবিতে একটি সমৃদ্ধ গবেষণাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে ভূমিকা রাখবে।