২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে জাতীয় দলের জার্সিতে সাকিব আল হাসানের ফেরা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কাটার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে আগামী মার্চে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ দিয়েই দেশসেরা এই অলরাউন্ডারকে পুনরায় জাতীয় দলে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে বিসিবি সভাপতি যোগাযোগ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।
বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, সাকিব আল হাসান সবসময়ই দেশের হয়ে খেলার ইচ্ছা পোষণ করে আসছেন এবং বোর্ডও তাকে ফেরানোর ব্যাপারে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। গত ২৪ জানুয়ারি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বিদায় নিশ্চিত হওয়ার দিন বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে সাকিবকে ফেরানোর উদ্যোগের কথা জানায়। সেদিন বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান আমজাদ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেন যে, সাকিবের ফিটনেস, খেলার প্রাপ্যতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে নির্বাচক প্যানেল তাকে অবশ্যই বিবেচনায় নেবে। সাকিবের সঙ্গে বোর্ডের প্রাথমিক আলোচনাও সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি হোম ও অ্যাওয়ে—উভয় ধরনের সিরিজেই খেলার সম্মতি দিয়েছেন।
সাকিবের ফেরার বিষয়ে বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানান, বোর্ড সভাপতি বর্তমানে সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাকিবের ফেরার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করছেন। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে আসন্ন পাকিস্তান সিরিজেই তাকে আবার মাঠে দেখা যেতে পারে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের সাবেক এই সংসদ সদস্য দেশে না ফিরলেও, ক্রিকেটের স্বার্থে তার ফেরার পথ প্রশস্ত করতে কাজ করছে বোর্ড।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্ট খেলে বিদায় নিতে চেয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু তৎকালীন পরিস্থিতির কারণে তার দেশে ফেরা সম্ভব হয়নি এবং এরপর থেকে তিনি আর জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামতে পারেননি। দীর্ঘ এই জটিলতার পর পাকিস্তান সিরিজকে কেন্দ্র করে সাকিবের প্রত্যাবর্তন এখন দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে প্রধান আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিসিবির এই উদ্যোগ সফল হলে অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটারকে ঘিরেই আসন্ন সিরিজগুলোর পরিকল্পনা সাজাতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট।