ক্রিকেট ইতিহাসের এক সোনালী অধ্যায় রচনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ দল। নিজেদের চেনা মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ এই সিরিজেই পেয়েছে টাইগাররা। এবার অপেক্ষা সিরিজ জয়ের এক ঐতিহাসিক মহাকাব্য লেখার। সিলেটে চলমান সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে জয় তুলে নিতে পারলেই নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম টেস্ট সিরিজ নিজেদের করে নেবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ঢাকার মিরপুরে পাকিস্তানকে ১০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ। এবার নাজমুল হোসেন শান্তর দূরদর্শী নেতৃত্বে সিলেট টেস্টেও জয়ের সুবাস পাচ্ছে টাইগাররা।
জয়ের সমীকরণ: ৩ উইকেট বনাম ১২০ রান
সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনের রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩১৬ রান সংগ্রহ করেছে পাকিস্তান। ম্যাচের পঞ্চম তথা শেষ দিনে ঐতিহাসিক জয়ের চাবিকাঠি পেতে বাংলাদেশের দরকার আর মাত্র ৩টি উইকেট। অন্যদিকে, নিশ্চিত পরাজয় এড়াতে হলে পাকিস্তানকে এখনো করতে হবে আরও ১২০ রান।
বর্তমান পরিস্থিতি:
বাংলাদেশের লক্ষ্য ৩টি উইকেট, পাকিস্তানের লক্ষ্য ১২০ রান। ম্যাচ বাকি- পঞ্চম দিনের খেলা (৯০ ওভার)
রিজওয়ানের একাকী লড়াই ও পাকিস্তানের ভাগ্য
ক্রিজে এখনো ঢাল হয়ে টিকে আছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও তারকা ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান, যিনি ৭৫ রানে অপরাজিত থেকে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে লোয়ার অর্ডারের তিন বোলার সাজিদ খান, খুররম শেহজাদ ও মোহাম্মদ আব্বাসকে সঙ্গী করে ম্যাচ বাঁচানোর এই অসম্ভব মিশন পার করা রিজওয়ানের জন্য একপ্রকার পর্বতসম চ্যালেঞ্জ।
টেলেন্ডারদের নিয়ে শেষ দিনের পুরো তিনটি সেশন অর্থাৎ ৯০ ওভার ক্রিজে কাটিয়ে দেওয়া কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। প্রকৃতির কোনো বড় বিপর্যয় বা বৃষ্টিতে ম্যাচ ভেস্তে না গেলে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক সিরিজ জয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
তবে ক্রিকেটের চিরন্তন অনিশ্চয়তার কথা ভুলে গেলেও চলবে না, বিশেষ করে দলটির নাম যখন ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিস্তান! যেকোনো মুহূর্তে অবিশ্বাস্য কিছু ঘটিয়ে পাশা উল্টে দেওয়ার নজির তাদের রয়েছে। ফলে শেষ দিনে ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য মাঠে যে দারুণ রোমাঞ্চ অপেক্ষা করছে, তা বলাই বাহুল্য।