বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

প্রেসক্লাব থেকে তুলে নিয়ে সাংবাদিককে মারধর, গ্রেফতার ২

প্রেসক্লাব থেকে তুলে নিয়ে সাংবাদিককে মারধর, গ্রেফতার ২

প্রেসক্লাব থেকে তুলে নিয়ে সাংবাদিককে মারধর, গ্রেফতার ২
ছবি : সংগৃহীত

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে প্রেসক্লাব থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে একটি আবাসিক হোটেলের মালিক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

ওই হোটেলে চলমান বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির কারণে গত মঙ্গলবার এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিককে উদ্ধার করার পাশাপাশি ঘটনার মূল হোতাসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে।

নির্যাতনের শিকার ওই জ্যেষ্ঠ সংবাদকর্মীর নাম মহিউদ্দিন আল আজাদ। তিনি হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জাতীয় দৈনিক 'বাংলাদেশ নিউজ' ও 'বাংলাদেশ খবর'-এর জেলা প্রতিনিধি এবং 'সাপ্তাহিক ত্রিনদী' পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যানুযায়ী, হাজীগঞ্জ বাজারের ‘মাতৃমায়া আবাসিক হোটেল’-এর সত্ত্বাধিকারী মো. ফারুক হোসেন লিটনের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অতর্কিত প্রবেশ করে। সেখান থেকে মহিউদ্দিন আল আজাদকে বলপ্রয়োগ করে টেনেহিঁচড়ে বের করে ওই হোটেল ভবনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাকে আটকে রেখে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মাতৃমায়া হোটেলে অভিযান পরিচালনা করে অবরুদ্ধ সাংবাদিককে নিরাপদে উদ্ধার করে। একই সময়ে মূল অভিযুক্ত ফারুক হোসেন লিটন এবং তার ছেলে তাওহীদ হোসেনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

জানা যায়, মাতৃমায়া নামের ওই হোটেল এবং এর মালিকের বিরুদ্ধে আগে থেকেই এলাকাবাসীর বিস্তর অভিযোগ ছিল। কিছুদিন আগে ওই ভবনের ভেতর থেকে এক বৃদ্ধা নারীর মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হোটেলটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সরকারি বিধিনিষেধ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেই অবৈধভাবে এর কার্যক্রম চলছিল।

এদিকে, সাংবাদিককে প্রকাশ্য দিবালোকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এই নজিরবিহীন ঘটনার পর স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

উদ্ধার হওয়ার পর আহত সাংবাদিক মহিউদ্দিন আল আজাদকে শুরুতে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এই হামলার ঘটনায় তিনি নিজে বাদী হয়ে ফারুক হোসেন লিটন, তার ছেলে তাওহীদ, বাবা আনোয়ার হোসেন এবং অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে হাজীগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।

ওসি মো. আব্দুল মান্নান গণমাধ্যমকে জানান, দায়ের হওয়া মামলায় ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলায় অংশগ্রহণকারী বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চলমান রয়েছে।

অন্যদিকে, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনার দায়ে মঙ্গলবার বিকেলেই কঠোর পদক্ষেপ নেয় স্থানীয় প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন নিজে উপস্থিত থেকে বিতর্কিত ওই মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলটি সিলগালা করে দেন।