রবিবার, 20 সেপ্টেম্বর 2026
সকল বিভাগ

অদ্ভুত দেশ আমাদের! অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর: স্পিকার

সরকারি স্তরে দায়িত্বপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশের সততার ঘাটতির কারণে অনিয়ম ও অনৈতিক লেনদেন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

অদ্ভুত দেশ আমাদের! অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর: স্পিকার

ভোট কারচুপি ও আর্থিক অনিয়মের ওপর ভর করে পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকার দেশ পরিচালনা করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তিনি মন্তব্য করেন, রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় তহবিল ফাঁকা করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা হিসেবে পাওয়া অর্থের সিংহভাগই বেআইনিভাবে ভিনদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঞ্চিত তহবিল পর্যন্ত লোপাট করে ফিলিপাইনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।


রোববার বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিনে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। স্পিকার উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ কেলেঙ্কারিতে ফিলিপাইনের যেসব নাগরিক সংশ্লিষ্ট ছিল তারা আইনি প্রক্রিয়ায় কারাবাস করলেও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ হোতারা বিচারের বাইরেই রয়ে গেছে।

প্রশাসনিক দুর্নীতির বিস্তার নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি জানান, সরকারি স্তরে দায়িত্বপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশের সততার ঘাটতির কারণে অনিয়ম ও অনৈতিক লেনদেন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। যেসব অপরাধের বিচার পৃথিবীর অন্যান্য রাষ্ট্রে নাগরিকদের দাবি ছাড়াই নিশ্চিত হয়, বাংলাদেশে বছরের পর বছর দীর্ঘশ্বাস ফেলেও তার সমাধান মিলছে না।

তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময়ে প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করেন স্পিকার।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের মন্ত্রী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জনসাধারণের কষ্টার্জিত তহবিল আত্মসাৎ করে যুক্তরাজ্য, দুবাই কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অঢেল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি লন্ডনে সাবেক এক মন্ত্রীর শত শত আবাসন থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এখনও প্রশাসনিক কাঠামোতে বিগত ব্যবস্থার বহু সুবিধাভোগী অবস্থান করায় অপকর্মের সামগ্রিক চিত্রটি মানুষের সামনে পুরোপুরি স্পষ্ট হচ্ছে না।

প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে স্পিকার দাবি করেন, বাংলাদেশের সার্বিক উন্নতি ওই রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত নয়। বরং তারা ভূরাজনৈতিকভাবে দেশকে নিজস্ব প্রভাববলয়ে আটকে রাখতে চায়।

তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের দীর্ঘ মেয়াদে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে প্রতিবেশী দেশের সুবিধার্থেই একাধিক অসম চুক্তি কার্যকর করা হয়েছিল। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে বহিরাগত জাহাজকে অগ্রাধিকার দিয়ে অভ্যন্তরীণ পণ্য খালাস পিছিয়ে দেওয়ার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিনা শুল্কে কিংবা নামমাত্র ফিতে বাংলাদেশের ভূখণ্ড দিয়ে পণ্য পরিবহনের সুযোগ করে দেওয়ার ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় নিরস্ত্র মানুষদের প্রাণহানি অব্যাহত থাকার চিত্র তুলে ধরে অন্য প্রতিবেশী সীমান্তগুলোর তুলনায় এখানে বিদ্যমান বৈষম্যের দিকটিও তিনি সামনে আনেন।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদের সঞ্চালনায় ওই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দলীয় সহসভাপতি জাকির হোসেন হাওলাদার, হাসান মাকসুদুর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম এবং চাঁদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মহিউদ্দিন জুলফিকারসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।