মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী নিজেই স্থানীয় থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে ধরা দিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম রিতা রুদ্র পাল এবং তার বয়স ৩৩ বছর। পুলিশ অভিযুক্ত পিন্টু রুদ্র পালকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ওই দম্পতির মধ্যে বেশ কিছু দিন ধরে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন চলছিল। বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে তাদের মধ্যকার বাদানুবাদ চরম রূপ নেয়। একপর্যায়ে পিন্টু রুদ্র পাল ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার স্ত্রীর গলায় আঘাত করলে রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই রিতার প্রাণহানি ঘটে। এই ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ব্যক্তি জুড়ী থানায় গিয়ে দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পূর্ব জুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুহেল উদ্দিন জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার দীর্ঘদিনের পারিবারিক অমিল ও কলহের কারণেই সম্ভবত এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং নৃশংসতার আসল কারণ জানতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।