বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

তামিমকে ‘ভারতীয় এজেন্ট’ আখ্যা বিসিবি পরিচালকের, প্রতিবাদে ফুঁসে উঠলেন ক্রিকেটাররা

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশের ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে যখন আলোচনা তুঙ্গে, তখন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে নিয়ে বিসিবির এক পরিচালকের মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্য প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় দলের বর্তমান ও সাবেক একাধিক ক্রিকেটার।

তামিমকে ‘ভারতীয় এজেন্ট’ আখ্যা বিসিবি পরিচালকের, প্রতিবাদে ফুঁসে উঠলেন ক্রিকেটাররা
সামাজিক মাধ্যমে তামিম ইকবালকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বিসিবি পরিচালক ও অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলাম।

 


টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশের ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে যখন আলোচনা তুঙ্গে, তখন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে নিয়ে বিসিবির এক পরিচালকের মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্য প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় দলের বর্তমান ও সাবেক একাধিক ক্রিকেটার।

বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন—এমন মত দিয়ে গতকাল এক অনুষ্ঠানে কথা বলেন তামিম ইকবাল। সেই বক্তব্যের একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম। ‘ফ্রেন্ডস’ প্রাইভেসিতে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন,
‘এইবার আরো একজন পরিক্ষিত (পরীক্ষিত) ভারতীয় এজেন্ট এর আত্মপ্রকাশ বাংলার জনগণ দুচোখ ভরে দেখলো।’

সাবেক জাতীয় অধিনায়ককে নিয়ে এমন মন্তব্যের কারণ জানতে নাজমুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে আজ দুপুরে তিনি আবারও ‘ফ্রেন্ডস’ প্রাইভেসিতে আরেকটি পোস্ট দেন।

সেই পোস্টে নাজমুল ইসলাম লেখেন,
‘মুস্তাফিজ ইস্যুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যখন ভারতে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে, মাননীয় ক্রীড়া উপদেষ্টা বিষয়টা আন্দাজ করতে পেরে আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচসমূহ ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরে বিসিবিকে আইসিসির সঙ্গে আলোচনা করতে বলেছেন। মাননীয় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা পর্যন্ত সমর্থন করেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টার সিদ্ধান্তকে। এমন এক পরিস্থিতিতে দেশের জনগনের সেন্টিমেন্টের বাইরে গিয়ে ভারতীয়দের হয়ে ব্যাট করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের জার্সিতে ১৫ হাজার রান করা এক লিজেন্ডারি ক্রিকেটার।’

স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি যোগ করেন,
‘এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত অভিমত। প্লিজ, এই মন্তব্যকে অন্যভাবে নেবেন না।’

এ বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি তামিম ইকবাল। তবে তার সতীর্থ ও সহকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন।

বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম ফেসবুকে লিখেছেন,
‘সাবেক জাতীয় অধিনায়ক তামিম ইকবালকে নিয়ে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বক্তব্যে আমি হতবাক। একজন জাতীয় দলের ক্রিকেটার সম্পর্কে বোর্ড পরিচালকের এমন শব্দচয়ন শুধু রুচিহীনই নয়, তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং আমাদের ক্রিকেট সংস্কৃতির পরিপন্থী।’

তিনি আরও লেখেন,
‘এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে আমি দৃঢ় প্রতিবাদ জানাচ্ছি… সংশ্লিষ্ট পরিচালকের প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি তাকে যথাযথ জবাবদিহিতার আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

একই সুরে প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক। তিনি লেখেন,
‘সাবেক জাতীয় অধিনায়ক তামিম ইকবালকে নিয়ে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের মন্তব্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং দেশের ক্রিকেট সমাজের প্রতি অপমানজনক।’

মুমিনুল আরও বলেন,
‘একজন সিনিয়র ক্রিকেটারকে ন্যূনতম সম্মান না দিয়ে প্রকাশ্যে অপমান করা হয়েছে। আমি এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্ট পরিচালকের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া ও তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

জাতীয় দলের পেসার তাসকিন আহমেদও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফেসবুকে তিনি লেখেন,
‘ক্রিকেট বাংলাদেশের প্রাণ। সেই ক্রিকেটে বড় অবদান রাখা সাবেক জাতীয় অধিনায়ককে ঘিরে এ ধরনের মন্তব্য দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে সহায়ক নয়।’

এ ঘটনার প্রতিবাদে বিসিবির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছে ক্রিকেটারদের সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। আজ দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কোয়াব জানায়,
‘সাবেক জাতীয় অধিনায়ক তামিম ইকবালকে নিয়ে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের মন্তব্যে আমরা স্তব্ধ, বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সফলতম ওপেনারকে নিয়ে এমন মন্তব্য চরম নিন্দনীয়।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়,
‘একজন দায়িত্বশীল বোর্ড কর্মকর্তা যখন প্রকাশ্য প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের বক্তব্য দেন, তখন বোর্ড কর্মকর্তাদের আচরণবিধি নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।’