বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

তাসকিন-নাহিদদের দাপট দেখানোর দিন আজ

প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, সিলেট টেস্টে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে পাকিস্তান। কিন্তু ম্যাচের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে পুরো চিত্র পাল্টে দিয়েছে বাংলাদেশ। বোলারদের পর ব্যাটারদের দাপটে এখন লাক্কাতুরায় নিয়ন্ত্রণ স্বাগতিকদের হাতে।

তাসকিন-নাহিদদের দাপট দেখানোর দিন আজ

প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, সিলেট টেস্টে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে পাকিস্তান। কিন্তু ম্যাচের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে পুরো চিত্র পাল্টে দিয়েছে বাংলাদেশ। বোলারদের পর ব্যাটারদের দাপটে এখন লাক্কাতুরায় নিয়ন্ত্রণ স্বাগতিকদের হাতে।

দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রান তুলে পাকিস্তানের সামনে ৪৩৭ রানের কঠিন লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে শেষ দুই দিনে সফরকারীরা সেই পাহাড়সম লক্ষ্য টপকাতে পারে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ১১০ রানে ৩ উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে তৃতীয় দিনে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও লিটন কুমার দাসের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে ওঠে।

প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা লিটন দ্বিতীয় ইনিংসেও ধারাবাহিকতা ধরে রেখে টেস্ট ক্যারিয়ারের ২০তম ফিফটি পূর্ণ করেন। তিনি ৬৯ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন।

লিটনের বিদায়ের পরও একপ্রান্ত আগলে রাখেন মুশফিকুর রহিম। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে তুলে নেন নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরি। এর মধ্য দিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির একক মালিক এখন তিনি। ১৩ সেঞ্চুরি নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন মুমিনুল হক।

পাকিস্তানের বিপক্ষে দলের অন্য ব্যাটাররা যখন বড় ইনিংস খেলছেন, তখন ব্যাট হাতে ব্যর্থ সময় পার করছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ফেরেন ১৯ রান করে।

এর আগে মিরপুর টেস্টে তার ব্যাট থেকে আসে ১০ ও ২৪ রান। পুরো সিরিজের চার ইনিংসে এই অলরাউন্ডারের সংগ্রহ মাত্র ৫৭ রান।

শেষ দিকে ব্যাট হাতে অবদান রাখেন তাইজুল ইসলাম ও শরীফুল ইসলাম। তাইজুল করেন ১৯ রান, আর শরীফুল যোগ করেন ১২ রান। এতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস থামে ৩৯০ রানে।

প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানে পিছিয়ে থাকায় পাকিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৩৭ রান। ম্যাচে তখনও বাকি দুই দিন।

দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠ শোনা গেছে দুই শিবিরেই।

বাংলাদেশের হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে তাইজুল বলেন,
‘উইকেট এখনো খারাপ বলব না। বোলারদের মনোযোগ দিয়ে বল করতে হবে। ৪র্থ ইনিংস বিবেচনায় উইকেট এখনো ভালো। ডিসিপ্লিন থাকলে ম্যাচ পক্ষে থাকবে।’

মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ৭৭ রানের জুটি গড়া প্রসঙ্গে তাইজুল বলেন,
‘আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের জন্য খুবই ইতিবাচক। একজন সিনিয়র প্লেয়ারের সাথে যখন ড্রেসিংরুম শেয়ার করবেন, ত্রিজে তার সাথে যে থাকে তার ব্যাটিং সহজ হয়। আমাকেও অনেক ইনফরমেশন দিচ্ছিলেন। ব্যাটিং করবেন ৫০ শতাংশ, ৩০-৪০ শতাংশ কাজ হয়ে যায়। অভিজ্ঞ কারো সাথে ব্যাট করলে বা ড্রেসিংরুম শেয়ার করলে অনেক কিছু বুঝতে পারা সহজ হয়ে যায়।’

অন্যদিকে পাকিস্তানের পেস বোলিং কোচ উমর গুলও আশা ছাড়ছেন না। ৪৩৭ রানের লক্ষ্য নিয়ে তিনি বলেন,
‘৪৩৭ রান চেজ করতে গেলে ব্যাটারদের সাহসী হতে হবে। পিচ খুব একটা খারাপ না। আমরা বড় কিছুর আশা করতে পারি।’

উইকেটের আচরণ নিয়ে তিনি বলেন,
‘সত্যি বলতে উইকেট প্রথম দিন বোলারদের সহায়তা দিয়েছে, ময়েশ্চার ছিল। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে পারফেক্টলি ব্যাটিং উইকেট। ব্যাটারদের সহায়তা দিচ্ছে। এখনো পিচ ব্যাটিংযের জন্য ভালো।’

এখন দেখার বিষয়, প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া পাকিস্তান ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে আবারও চাপে পড়ে কি না। সবমিলিয়ে শেষ দুই দিনে তাসকিন-নাহিদদের বোলিংই নির্ধারণ করবে ম্যাচের ভাগ্য।