গাজীপুরের টঙ্গীতে বিএনপির পূর্বনির্ধারিত একটি গণমিছিলের প্রস্তুতি চলাকালীন আকস্মিক গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণে শিশুসহ অন্তত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক দগ্ধ হয়েছেন। আজ সোমবার বিকেলে টঙ্গীর হোন্ডা রোড এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্র জানায়, গাজীপুর-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনির নির্বাচনী গণমিছিলে অংশ নিতে টঙ্গীবাজার বাটাগেট এলাকায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সমবেত হয়েছিলেন। একপর্যায়ে হোন্ডা রোডের মুখে দলীয় কার্যালয়ের সামনে রাখা গ্যাস বেলুনগুলো হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে আশেপাশে থাকা নেতাকর্মীদের হাত, মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। বিস্ফোরণের পরপরই দগ্ধদের দ্রুত উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাফিয়া শারমিন জানিয়েছেন, আহতদের অনেকেরই শরীরের ১৮ থেকে ২০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর গুরুতর অবস্থায় বেশ কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। দগ্ধদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন—অনিক, হাসু, হাসনাত, আকাশ, রমজান, রাফি, বিজয়, তাসিন, সিয়াম, মিনহাজ ও রাব্বিসহ আরও অনেকে।
আহতদের মধ্যে অনেককে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, বর্তমানে দগ্ধদের ড্রেসিং ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। দগ্ধের সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে কিছুটা সময় লাগবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল করিম রনির সমর্থক মো. রবিউল ইসলাম জানান, বিকেলে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে বেলুনগুলো একটি ঘরের ভেতরে রাখা ছিল, যা মিছিল শুরুর প্রাক্কালে বিস্ফোরিত হয়। টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঠিক কী কারণে বিস্ফোরণটি ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নির্বাচনী পরিবেশের এই উত্তপ্ত সময়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে বেশ উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।