রবিবার, 20 সেপ্টেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ভারত থেকে শেখ হাসিনার বক্তব্যে ক্ষুব্ধ ঢাকা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তীব্র প্রতিক্রিয়া

ভারতের মাটিতে বসে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় গভীর বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এসব বক্তব্য বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে বলে মনে করছে সরকার।

ভারত থেকে শেখ হাসিনার বক্তব্যে ক্ষুব্ধ ঢাকা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তীব্র প্রতিক্রিয়া
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মাটিতে বসে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় গভীর বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এসব বক্তব্য বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে বলে মনে করছে সরকার।

রোববার এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, “বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত করা এবং আসন্ন নির্বাচনকে ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়ায় সরকার বিস্মিত ও হতাশ।”

শুক্রবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ‘সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে শেখ হাসিনার রেকর্ড করা অডিও ভাষণ শোনানো হয়। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতারা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল—জাতিসংঘকে আমন্ত্রণ জানিয়ে গত বছরের ঘটনাবলির ‘নিরপেক্ষ তদন্ত’ করা, যাতে তাদের ভাষায়, ‘খাঁটি সত্য’ উদ্ঘাটিত হয়।

এ ছাড়া আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, মব সন্ত্রাসের সংস্কৃতি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মী এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক মহলের নজরে আনার দাবি জানানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে টানা দুই সপ্তাহ ভারতের রাজধানীতে আওয়ামী লীগ নেতাদের সংবাদ সম্মেলন এবং এসব কার্যক্রম দুই দেশের সম্পর্ককে জটিল করে তুলছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাপর্ণ চুক্তি অনুযায়ী বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও ভারত শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করেনি, যা বাংলাদেশকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করেছে। বরং তাকে ভারতের মাটিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য স্পষ্ট হুমকি।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করে, এ ধরনের বক্তব্য ও কার্যক্রম দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং প্রতিবেশীসুলভ আচরণের নীতির সঙ্গে এসব ঘটনা সাংঘর্ষিক। এর ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আওয়ামী লীগ নেতাদের উস্কানিমূলক বক্তব্য আবারও প্রমাণ করেছে কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিন সংঘটিত সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং যেকোনো ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”