জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দিল্লির প্রতি নমনীয় অবস্থান পরিহার করে দৃঢ় ও মর্যাদাসম্পন্ন বৈদেশিক নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সাথে সীমান্তে প্রাণ হারানো নাগরিকদের স্বজনদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি।
শুক্রবার বিকেলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্ত পরিদর্শনে যান এনসিপির শীর্ষ নেতারা। সেখানে গত ১২ জুন বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারানো মুজিব আলীর কবর জিয়ারত ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারী এবং মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। এর আগে দুপুরে স্থানীয় রবিরবাজারে সাধারণ মানুষের সাথে কুশল বিনিময় এবং চাতলা বাজারে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অংশ নেন তারা।
পথসভায় নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের কোনো পৃথক পরিচয় নেই, তাদের মূল পরিচয় তারা এ দেশের নাগরিক। কেবল বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ার কারণেই সীমান্ত এলাকায় প্রতিনিয়ত এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে।
সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা উল্লেখ করেন, সীমান্ত সুরক্ষায় শুধু কাঁটাতারের বেড়া দেওয়াই একমাত্র সমাধান নয়। সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক অধিকারগুলোর ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। তাই সেখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আত্মমর্যাদা বজায় রাখা জরুরি। পাশাপাশি দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে আরও দক্ষ ও আধুনিক করতে উন্নত সরঞ্জাম, উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা এবং যৌক্তিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আসার সুযোগ পেলে সীমান্তে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানেরও আশ্বাস দেন এই সমন্বয়ক। অনুষ্ঠানে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।