বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

'যারা মৌলবাদী রাষ্ট্র বানাতে চায়, তারাই সিনেমা বন্ধ করেছে'

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী স্থগিতের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।

'যারা মৌলবাদী রাষ্ট্র বানাতে চায়, তারাই সিনেমা বন্ধ করেছে'
মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী স্থগিতের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।

সোমবার (১ জুন) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, “দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী বলা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে। অথচ ২০২১ সালে সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর সঙ্গীতাঙ্গন আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোনো সিনেমা হল নেই, কোন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না এই কালো নকশা কারা করছে। মূলত যারা বাংলাদেশকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে গিয়ে একটি মৌলবাদী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিত করতে চায় তারাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ করে দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ যেমন কোন বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর নয় বরং জনতার যুদ্ধ ছিলো তেমনি, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানেও দেশের সব শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নিয়েছে। তাই কেউ যদি দেশের গণআন্দোলনকে কুক্ষিগত করতে চায় তার পরিণতি অতীতে যেমন ভাল হয়নি, ভবিষ্যতেও তার পরিণতি ভাল হবে না।”

বনলতা এক্সপ্রেস একটি পারিবারিক ও সামাজিক চলচ্চিত্র উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বনলতা এক্সপ্রেস একটি পারিবারিক ও সামাজিক ছবি হওয়া সত্বেও তা কেন বন্ধ করে দেওয়া হলো। যে রাষ্ট্রে ধর্ষণ, হত্যা, দুর্নীতি বন্ধ করতে পারে না; সে রাষ্ট্র কেন সিনেমা বন্ধে মদদ দেয়।”

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, “গত দুই বছরে মাজার ভাঙা হয়েছে কবর থেকে তুলে নিয়ে মরদেহ পোড়ানো হয়েছে, ডানপন্থী উগ্রবাদের উত্থান দেখেছি। কিন্তু আমাদের দেশের মাটি এমন ছিলো না। এই দেশে যেমন সুমধুর আজানের ধ্বনি শুনেছি, তেমনি বাউল গানও হয়েছে। কিন্তু এখন প্রশ্ন জাগে কারা বাংলাদেশকে এখন মৌলবাদের ভূমি বানাতে চায়। আমরা এমন রাষ্ট্র আমরা আশা করি না. যে রাষ্ট্র মানুষকে পেছনে নিয়ে যাবে।” এ সময় তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বিঘ্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন উদীচী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রহমান, রিফতি আল জাবেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সামাজিক সংগঠন সোনালী সকালের সভাপতি ফাহিম মুনতাসিরসহ অন্যরা। বক্তারা সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তারা সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য অবাধ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে একটি প্রতিবাদ মিছিল করেন।

উল্লেখ্য, গত ৩০ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমাটি প্রদর্শনের কথা ছিল। তবে ‘কওমী ছাত্র-জনতার’ বিরোধিতার মুখে প্রদর্শনী স্থগিত করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।