কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পূর্বলন্ডনে আয়োজন করা হয় এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘নানা রঙের রবীন্দ্রনাথ’। সৃজনশীল পরিবেশনা ও সংগীতের মাধ্যমে কবিগুরুর বহুমাত্রিক সৃষ্টিকে তুলে ধরা হয় এ আয়োজনে।
৯ মে পূর্বলন্ডনের রেডব্রিজ এলাকার মেথডিস্ট চার্চ মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয় শিশু শিল্পীদের দলীয় পরিবেশনা ‘আমরা নূতন প্রাণের চর’-এর মাধ্যমে, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে প্রাণবন্ত সাড়া জাগায়।
এরপর মঞ্চস্থ হয় ‘সত্যজিতের চলচ্চিত্রে রবীন্দ্রসংগীত’ শীর্ষক বিশেষ পর্ব। এটি গ্রন্থনা ও উপস্থাপনা করেন সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব উদয় শঙ্কর দাশ। এ পর্বে উর্বী মধুরা, মৃত্তিকা সহিতা এবং ইমতিয়াজ আহমদের কণ্ঠে পরিবেশিত রবীন্দ্রসংগীত দর্শকদের গভীরভাবে মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে একক সংগীত পরিবেশন করেন রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী প্রবুদ্ধ রাহা। তার পরিবেশনা শ্রোতাদের আবেগ ও সুরের মূর্ছনায় আবিষ্ট করে তোলে।
সমাপনী পর্বে ছিল ‘রবীন্দ্র বাউলের গান’ পরিবেশনা। রবীন্দ্রনাথের বাউলধারার গান ও প্রচলিত বাউল সংগীতের সমন্বয়ে তৈরি এই অংশটি পুরো আয়োজনকে দেয় আলাদা মাত্রা। আনন্দধারা আর্টসের শিল্পীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ এবং দর্শকদের সক্রিয় উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণচঞ্চল করে তোলে।
আনন্দধারা আর্টসের পরিচালক ডা. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের জন্ম অবিভক্ত বাংলায়। তাঁর পূর্বপুরুষ পূর্ববাংলার। তাঁর সমগ্র সৃষ্টির ভেতর পূর্ববাংলা, অর্থাৎ আজকের বাংলাদেশের প্রকৃতি ও তার নিবিড় বন্ধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁকে কেবল ভারতীয় কবি হিসেবে গণ্ডিবদ্ধ করার কুচক্র কীভাবে সম্ভব? যিনি তাঁর সমস্ত সৃষ্টির মধ্য দিয়ে বিশ্বজগতের হয়ে উঠেছেন, তাঁকে ক্ষুদ্র গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ করতে চাওয়া মানে নিজেদের ক্ষুদ্রতাকেই বারবার প্রকাশ করা। আমরা সেই ক্ষুদ্রতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির ভেতর দিয়ে অন্য এক জীবন উদযাপন করতে চাই।’
অনুষ্ঠানে যন্ত্রসংগীতে ছিলেন অনিরুদ্ধ মুখার্জি, অমিত দে, পিয়াস বড়ুয়া, অমি ইসলাম ও তানিম। শব্দ নিয়ন্ত্রণে ছিলেন আরাফাত কীর্তি এবং মঞ্চসজ্জায় দায়িত্ব পালন করেন গোলাম আকবর মুক্তা।







