আর্কাইভ
ads
logo

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মারামারি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশকাল: ১০ জুন ২০২৬, ০১:০১ পি.এম
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মারামারি

ছবি : সংগৃহীত

ads

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সামান্য গাছের পাতা সংগ্রহ করার মতো একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের এক কর্মকর্তা এবং একজন ভ্যানচালকের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত মারামারির ঘটনা ঘটেছে

এই সংঘর্ষে ওই ভ্যানচালক রক্তাক্ত জখম হলে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত ও সুস্থ রয়েছেন।

গত মঙ্গলবার বিকালের দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন চত্বরে এই অনভিপ্রেত ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আমিরুল ইসলাম ডাবলু ওই সময়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনের একটি গাছ থেকে পাতা সংগ্রহ করছিলেন। তখন সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় মাসুদ রানা নামের এক ভ্যানচালক নিজের পালিত পশুর জন্য কিছু পাতা দাবি করেন। এই পাতা চাওয়াকে কেন্দ্র করেই মূলত উভয়ের মধ্যে মৃদু বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নেয়। ঘটনার পরপরই আহত ভ্যানচালককে উদ্ধার করে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়।

আক্রান্ত ভ্যানচালক মাসুদ রানা ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান যে, প্রশাসন ভবনের পাশে দুজনকে গাছের পাতা পাড়তে দেখে তিনি তাঁর বাড়িতে থাকা ছাগলের জন্য সামান্য পাতা চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা পাতা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি সেখান থেকে চলে যান এবং দুদল ছাত্রীকে ভ্যানে করে হলের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ছাত্রীদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে নামিয়ে দেওয়ার পর ওই কর্মকর্তা ও তাঁর সহযোগী মোটরসাইকেলে করে এসে তাঁর পথরোধ করেন এবং পরিচয় না জেনে কেন মন্তব্য করা হয়েছে, তা নিয়ে জেরা শুরু করেন। একপর্যায়ে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তাঁকে শারীরিক লাঞ্ছনা করা হয় এবং ব্যাগে থাকা কাঁচি দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে পাল্টা অভিযোগ এনে ডেপুটি রেজিস্ট্রার আমিরুল ইসলাম ডাবলু জানান, বিকাল চারটার দিকে তিনি যখন পাতা সংগ্রহ করছিলেন, তখন ওই ভ্যানচালক নিচে দাঁড়িয়ে পাতা দাবি করেন। পাতা দিতে রাজী না হওয়ায় ওই চালক গালিগালাজ করতে করতে স্থান ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে কেবল এই অশোভন আচরণের কারণ জানতে তাঁকে ডাকা হলে একপর্যায়ে হাতাহাতির সূত্রপাত ঘটে। কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী, ভ্যানচালক তাঁকে কামড়ে ধরে রাখলে আত্মরক্ষার্থে তিনি কেবল প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি আরও জানান যে, প্রক্টর দপ্তরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত এই কর্মকর্তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা সমিতির একজন নির্বাচিত সদস্য। এই বিষয়ে কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি আব্দুল মঈদ জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে মোটেও অবগত ছিলেন না এবং খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানাবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রের দায়িত্বরত চিকিৎসকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাথায় গভীর আঘাতের কারণে ভুক্তভোগী ভ্যানচালকের ক্ষতস্থানে চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে তিনি এখন সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ওয়ালিউর রহমান পিকুল দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এমন রক্তাক্ত পরিস্থিতি তৈরি হওয়া সত্যিই অনভিপ্রেত, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, বিষয়টি ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এসেছে। আহত ব্যক্তির যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উদ্ভূত পরিস্থিতি শান্ত করতে রাতে উভয় পক্ষকে ডেকে একটি সুষ্ঠু মীমাংসার চেষ্টা চালানো হবে।

ads

এই বিভাগের আরও খবর

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ