আর্কাইভ
ads
logo

বাজেটে প্রবীণদের জন্য ট্রেন ভাড়া সম্পূর্ণ ফ্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশকাল: ১১ জুন ২০২৬, ০৫:৪৫ পি.এম
বাজেটে প্রবীণদের জন্য ট্রেন ভাড়া সম্পূর্ণ ফ্রি

৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের লাগবে না ট্রেন ভাড়া, মেট্রোরেলেও ২৫% ছাড়। ছবি: সংগৃহীত

ads

দেশের প্রবীণ নাগরিকদের জন্য নতুন সুবিধা ঘোষণা করেছে সরকার। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ট্রেনে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুযোগ এবং মেট্রোরেল ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে এ ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে ট্রেনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভ্রমণ এবং মেট্রোরেলে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা চালু করা হবে।

এ সময় তিনি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানোর বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে বয়স্ক ভাতা এবং বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত ও নিগৃহীতা নারীদের জন্য ভাতা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৮ লাখে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের মাসিক ভাতা এক হাজার টাকা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সহায়তাও বাড়ানো হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি করে এক লাখে উন্নীত করা হবে এবং শিক্ষার স্তর অনুযায়ী মাসিক ভাতা এক হাজার থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১৮ লাখ ৯৫ হাজার মা ও শিশুকে মাসিক ৮৫০ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ক্যানসারসহ ছয়টি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এককালীন আর্থিক সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাজেটে বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় নতুন সুবিধার কথাও বলা হয়েছে। অবসরের সময় মোট সঞ্চিত অর্থের ৩০ শতাংশ গ্র্যাচুইটি হিসেবে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানি ২০ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের ভাতা ৫ হাজার টাকা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের জন্য ৪০ হাজার টাকা, বীর উত্তম পরিবারের জন্য ৩০ হাজার টাকা এবং বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক পরিবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা ভাতা নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের জন্য মাসিক ২০ হাজার টাকা এবং আহতদের ক্যাটাগরিভেদে ২০ হাজার, ১৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা ভাতা চালু রাখার কথাও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার।


ads

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ