একাধিক চিরকুট উদ্ধারের পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মোহাইমিনুল ইসলামের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ক্যাম্পাসে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের (৫০তম আবর্তন) এই শিক্ষার্থীর সন্ধানে সাভার মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে উদ্ধারকৃত চিঠিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিষয়ে আনা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যার দিকে সহপাঠীরা প্রথম মোহাইমিনুলের নিখোঁজ থাকার বিষয়টি আঁচ করতে পারেন। পরে তারা তার কক্ষে গিয়ে হাতে লেখা কিছু চিঠি দেখতে পান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানা যায়, রোববার বিকেল তিনটা আট মিনিটে মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনের বাসস্টপ থেকে রাজধানীমুখী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিআরটিসি বাসে চড়তে দেখা যায় মোহাইমিনুলকে। এরপর থেকেই তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং এখন পর্যন্ত তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মোহাইমিনুল মীর মশাররফ হোসেন হলের ‘এ’ ব্লকের ১১০ নম্বর কক্ষে থাকতেন।
তাঁর সহপাঠী মিম জানান, সন্ধ্যা আনুমানিক ছয়টার দিকে মোহাইমিনুলের অনুপস্থিতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। কক্ষে গিয়ে তাঁর লেখা কয়েকটি বার্তা পাওয়ার পর থেকেই সহপাঠীরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি অব্যাহত রেখেছেন।
শিক্ষাজীবনের পরিস্থিতি সম্পর্কে সহপাঠীরা জানান, সম্মান শেষ বর্ষের একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় চলতি শিক্ষাবর্ষে তাঁর মানোন্নয়ন পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। তা সত্ত্বেও তিনি গত প্রায় ছয় মাস ধরে স্নাতকোত্তরের পাঠ্যক্রমে অংশ নিয়ে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি তাঁকে চতুর্থ বর্ষের ওই কোর্সের পরীক্ষায় পুনরায় বসার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই ঘটনা তাঁর মানসিক অবস্থার ওপর কতটা বিরূপ প্রভাব ফেলেছিল, তা তারা স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না।
সহপাঠীদের দাবি, কক্ষে ফেলে যাওয়া চিঠিগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক চাপ, শিক্ষকদের আচরণ এবং পারিবারিক জটিলতা ঘিরে চরম হতাশার ছাপ রয়েছে। এমন চরম সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনে বিভাগের শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হূসাইন মো. সায়েম জানান, বিষয়টি নজরে আসার পরই তিনি খোঁজখবর নিয়েছেন এবং নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে দ্রুত খুঁজে বের করতে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছেন।
এদিকে প্রশাসনিক পর্যায়ে তদন্ত কমিটি গঠনের সত্যতা জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান। এতে গাণিতিক ও পদার্থবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাহবুব কবিরকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক হূসাইন মো. সায়েম এবং সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. আল আমিন খান। প্রক্টর দপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার সোহেল রানাকে সদস্যসচিবের দায়িত্ব দিয়ে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হালিম জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই থানায় জিডি করা হয়। নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করতে পুলিশ প্রশাসন কাজ করছে। একই সঙ্গে তাঁর রেখে যাওয়া চিরকুটের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে প্রশাসনিক তদন্তও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে।
মোহাইমিনুল ইসলামের অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কিংবা নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।