ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ইরানের পক্ষ থেকে চালানো এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৫৮ জন আহত হয়েছেন। এই হামলায় বেশ কিছু আবাসিক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
ইসরাইলি ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগ জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলীয় শহর জারজিরের একটি স্থাপনায় সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে সেখানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। উদ্ধারকারী দলগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়। ইসরাইলি জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, তাদের প্যারামেডিকরা ৫৪ জন সামান্য আহত এবং ৪ জন গুরুতরসহ মোট ৫৮ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও হাসপাতালে স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন করেছে।
জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী সংস্থা ‘মাগেন ডেভিড অ্যাডম’ এর তথ্যমতে, আহতদের মধ্যে ৩৪ বছর বয়সি এক নারী রয়েছেন যার পিঠে ক্ষেপণাস্ত্রের স্প্লিন্টার বা ধাতব খণ্ড বিঁধেছে। তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া কাঁচ ভেঙে ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরীসহ আরও অনেকে আহত হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি ভবন প্রায় বিধ্বস্ত হয়ে গেছে এবং রাস্তার পাশে থাকা গাড়িগুলো দুমড়েমুচড়ে ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চল জুড়ে বিপৎসংকেত বা সাইরেন বাজার পরপরই তারা ইরান থেকে ধেয়ে আসা বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই জারজিরসহ কয়েকটি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি এক ঘোষণায় জানায় যে, তেহরান পুনরায় ইসরাইল অভিমুখে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে। একই সময়ে লেবানন ভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ চালাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।