আর্কাইভ
ads
logo

নাসির-তামিমার বিয়ে বৈধ ছিল: আদালত

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশকাল: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:০৯ পি.এম
নাসির-তামিমার বিয়ে বৈধ ছিল: আদালত

ছবি : সংগৃহীত

ads

ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানার মধ্যকার বিবাহ বন্ধনটি সম্পূর্ণ বৈধ ছিল বলে রায় দিয়েছেন আদালত। আইনি প্রক্রিয়ায় আসামিপক্ষ বিষয়টি প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ায় তাদের এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই খালাসের আদেশ দেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ২০১৬ সালে পূর্বের স্বামীকে তালাক দেওয়ার পর ২০২১ সালে নাসিরের সঙ্গে তামিমার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো অন্তরায় ছিল না।

আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়, আসামি তামিমার বিরুদ্ধে ৪৯৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। এই ধারা প্রমাণ করতে হলে দ্বিতীয় বিয়েটি অবৈধ ছিল তা সুনির্দিষ্টভাবে দেখাতে হতো। অর্থাৎ, তামিমা তার প্রথম স্বামী রাকিবকে যে তালাক দিয়েছিলেন, তা কার্যকর হয়নি বলে গণ্য করার প্রয়োজন ছিল। তবে নথিপত্র অনুযায়ী, তামিমা তার আগের স্বামীকে যে তালাক দিয়েছেন, তার বৈধ তালাকনামা ও নিবন্ধন রয়েছে। এমনকি তালাক রেজিস্ট্রেশন বইয়েও তার দস্তখত রয়েছে।

বাদীপক্ষের দাবি ছিল যে তারা তালাকের কোনো নোটিশ পাননি। এর বিপরীতে আসামিপক্ষ ডাক বিভাগের মাধ্যমে চিঠি পাঠানোর রসিদ আদালতে উপস্থাপন করে। পাশাপাশি ডাক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মী আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দেন যে তিনি নোটিশ নিয়ে গিয়েছিলেন, তবে বাদী সেটি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান।

বিচারক তার রায়ে আরও বলেন, ২০১৬ সালে বিচ্ছেদের পর থেকে ২০২১ সালে নাসিরের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে বাদী ও তামিমার মধ্যে মাত্র কয়েকবার দেখা হয়েছিল। এর থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো একই ছাদের নিচে দাম্পত্য জীবন কাটাননি। উপরন্তু, তাদের সন্তানও আদালতে জবানবন্দি দিয়ে জানিয়েছে যে তার মা তাকে সঙ্গে নিয়ে একটি হোটেলে গিয়ে বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।

আদালত জানান, যেহেতু বাদী তার স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা অর্পণ করেছিলেন, সেই ক্ষমতা বলেই তামিমা ২০১৬ সালে বিচ্ছেদ সম্পন্ন করেন এবং তা যথাযথভাবে নিবন্ধিত হয়। ফলস্বরূপ, দীর্ঘ সময় পর ২০২১ সালে নাসিরের সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে সম্পন্ন হতে কোনো আইনি বাধা থাকে না। এ ছাড়া আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অন্যান্য অভিযোগও বাদীপক্ষ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তামিমা ও নাসির হোসেনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হলো।

এর আগে গত ৬ মে উভয় পক্ষের আইনি যুক্তি তর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। ওই দিন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আর্জি জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু তাদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে খালাসের আবেদন করেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও রাকিবের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল এবং তাদের একটি আট বছর বয়সী কন্যা সন্তান রয়েছে। পেশায় কেবিন ক্রু তামিমার সঙ্গে ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। পরে গণমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি পুরোপুরি জানতে পারেন। এরপরই তিনি অভিযোগ করেন যে, তার সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থাতেই তামিমা নাসিরকে বিয়ে করেছেন, যা আইন ও ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী অবৈধ।

এই ঘটনায় ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। পরের বছর ২৪ জানুয়ারি আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেন। তবে মামলার অপর আসামি তামিমার মা সুমি আক্তারকে সেই সময় অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। পুরো বিচার প্রক্রিয়ায় আদালত মোট ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

ads

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ