মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থবির হয়ে পড়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংকের বরাত দিয়ে বৈশ্বিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই সংকটের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি এবং ঋণের সুদের হার বা খরচ অনেক বেড়ে যেতে পারে।
সংস্থার প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির সার্বিক প্রবৃদ্ধি কমে ২.৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে, যা বিগত ২০২৫ সালে ছিল ২.৯ শতাংশ। যদিও ২০২৭ সালে এই প্রবৃদ্ধি সামান্য ঘুরে দাঁড়িয়ে ২.৮ শতাংশে পৌঁছানোর আভাস রয়েছে, তবুও তা কোভিড-পূর্ববর্তী বা স্বাভাবিক সময়ের গড় অর্থনৈতিক অগ্রগতির চেয়ে বেশ নিচেই অবস্থান করবে।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ওমান ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে তৈরি হওয়া উত্তেজনা এবং এর ফলে পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চলতি বছরে ব্রেন্ট ক্রুড অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য গড়ে প্রতি ব্যারেলে প্রায় ৯৪ ডলার পর্যন্ত ঠেকতে পারে।
একই সাথে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী এবং জ্বালানি তেলের এই লাগামহীন দাম বৃদ্ধির কারণে ২০২৬ সালে সামগ্রিক বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির হার ৪ শতাংশ স্পর্শ করতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি যদি আরও শোচনীয় রূপ নেয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতির চাকা মারাত্মকভাবে শ্লথ হয়ে প্রবৃদ্ধির হার ১.৩ শতাংশে এসে ঠেকতে পারে। এমনটা হলে বিশেষ করে অনুন্নত ও উদীয়মান উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি সবচেয়ে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে এবং তাদের ওপর ঋণের বোঝা বহুগুণ ভারী হবে।
তবে এই সম্ভাব্য বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তার জন্য বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে আপদকালীন তহবিল হিসেবে ৫০ থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় আর্থিক প্যাকেজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে প্রয়োজনে এই সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়ে ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।







