ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় দ্রুতগামী একটি ড্রাম ট্রাকের নিচে পিষ্ট হয়ে আব্দুল্লাহ আল আফফান নামের পাঁচ বছর বয়সী এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার মনিরামবাড়ি আল্লামা মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় এই সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম।
নিহত আফফান জামালপুর জেলার শৈলাকান্দা অঞ্চলের আকন্দ বাড়ির বাসিন্দা রোকোন উদ্দিন ও শেফালী আক্তার দম্পতির কনিষ্ঠ সন্তান। দুই ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল ছোট। তার বাবা মুক্তাগাছা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর ইকুইপমেন্ট রিফাইনারি ইউনিটে চাকরি করেন। শিশুটি স্থানীয় টাঙ্গাইল কুরতুবী মাদরাসার প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির ছাত্র ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা গেছে, বিকেলের দিকে সমবয়সী এক খেলার সাথিকে নিয়ে সড়ক পার হচ্ছিল আফফান। ঠিক ওই সময় মুক্তাগাছা পৌর শহর থেকে টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা বালু বোঝাই একটি ড্রাম ট্রাক বেপরোয়া গতিতে এসে শিশুটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থালেই তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর পর বিক্ষুব্ধ প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় জনতা রাস্তায় নেমে এসে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
পরিবারের একমাত্র ছোট ছেলেকে হারিয়ে বাবা রোকোন উদ্দিন এখন স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন এবং মা শেফালী আক্তার শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্বজনদের এমন হৃদয়বিদারক আর্তনাদে পুরো এলাকায় এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। ফুটফুটে এই শিশুর অকাল বিদায় কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না প্রতিবেশীরা।
মুক্তাগাছা থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, খেলার ছলে দুই শিশু একসাথে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। একজন অক্ষত অবস্থায় পার হতে পারলেও দুর্ভাগ্যবশত অপরজন ট্রাকের নিচে পড়ে প্রাণ হারায়। দুর্ঘটনার পর ঘাতক যানটি পুলিশ হেফাজতে নিলেও এর চালক সুকৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। নিহত শিশুর স্বজনদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক দাবি বা অভিযোগ না থাকায় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।







