দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর এক কোটি সাত লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা, মোজা ও ব্যাগ দেওয়ার বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমান প্রশাসনের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি এবং দেশের নীতিগত নির্দেশনার অংশ হিসেবে এই শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে।
আগামী মাস থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে এই কর্মসূচি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
সোমবার সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ যৌথ সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এই নতুন কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। প্রাথমিক স্তরের শিশুদের মাঝে পরিবেশবান্ধব ও পাটজাত স্কুল ব্যাগ বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়।
গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের প্রাথমিক স্তরের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাসামগ্রী ও পোশাক বিতরণের এই মহাপরিকল্পনাটি কয়েকটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম পর্যায় হিসেবে আগামী জুলাই মাসে কয়েক লাখ শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় এনে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হবে।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে সরকারের বিভিন্ন বিভাগ যৌথভাবে কাজ করছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ে পাঁচ লাখ পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ সরবরাহ করবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে উপজেলা ও স্থানীয় পর্যায়ে শিশুদের কাছে এসব সামগ্রী দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে পৌঁছে দেওয়ার মূল দায়িত্ব পালন করবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকারের প্রথম একশত আশি কার্যদিবস অতিক্রম করার আগেই দেশজুড়ে এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পটির সূচনা করা সম্ভব হবে। সরকারপ্রধান নিজে উপস্থিত থেকে এই বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রথম দিকে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থীর মাঝে সামগ্রী বিতরণ করা হবে এবং পরবর্তীতে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আরও চার লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর হাতে পোশাক, জুতা ও ব্যাগ তুলে দেওয়া হবে।
পরীক্ষামূলক এই উদ্যোগের সফলতার ওপর ভিত্তি করে আগামী শিক্ষাবর্ষে দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই সুবিধা আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক রূপান্তর আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
শিক্ষার মানোন্নয়নকে জাতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় যেভাবে একসঙ্গে কাজ করছে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, শিশুদের জন্য একটি সুন্দর ও আধুনিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই আগামীর সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব। এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।







