স্পেনভিত্তিক বিখ্যাত শিক্ষা ও গবেষণা মূল্যায়ন প্রতিষ্ঠান সিমাগো ইনস্টিটিউশনস র্যাঙ্কিংয়ের সর্বশেষ সংস্করণে ভেটেরিনারি সায়েন্স শাখায় বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রতিষ্ঠানটি ভালো অবস্থান দেখিয়েছে। এশিয়ার দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তারা ৯২তম অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছে এবং সামগ্রিক বিশ্ব তালিকায় এই অনুষদের অবস্থান ৪৩২তম। এই নিয়ে বিগত ২০২১ সাল থেকে টানা ছয় বছর ধরে অভ্যন্তরীণ শ্রেষ্ঠত্বের এই ধারা অক্ষুণ্ণ রাখল বিশ্ববিদ্যালয়টি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান এই সাফল্যের বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন। এ সময় অনুষদের প্রাক্তন ডিন, বিভিন্ন বিভাগের প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সিমাগো মূলত বিশ্বজুড়ে শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গুণগত মান, উদ্ভাবন ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন করে এই তালিকা করে থাকে। এবারের বৈশ্বিক তালিকায় ১০ হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভেটেরিনারি বিভাগে অন্তর্ভুক্ত ৯৭৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাকৃবি এই গৌরবজনক অবস্থান অর্জন করেছে।
প্রকাশিত এই তালিকায় দেশীয় প্রেক্ষাপটে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, যার আন্তর্জাতিক অবস্থান ৫৯৩তম। এর পরের স্থানগুলোতে যথাক্রমে রয়েছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। নিজেদের এই ধারাবাহিক গৌরব ধরে রাখার ব্যাপারে অনুষদের ডিন বলেন, এটি শিক্ষক, গবেষক এবং শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। আন্তর্জাতিক মান ধরে রাখতে এবং র্যাঙ্কিংয়ের সার্বিক বিষয়গুলো তদারকি করতে ইতিমধ্যেই অনুষদের শিক্ষকদের নিয়ে ১৫ সদস্যের একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।
তবে গবেষণার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকরা জানান, এই ধরনের আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে মূলত উচ্চমানের স্কোপাস ইনডেক্সড জার্নালে প্রকাশিত প্রবন্ধগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এই ক্ষেত্রে গবেষণার বাজেট এবং আন্তর্জাতিক জার্নালে লেখা প্রকাশের পেছনে যে বড় অঙ্কের আর্থিক খরচ হয়, তা মেটানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল একেবারেই অপ্রতুল। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দেশের অবস্থান আরও মজবুত করতে এবং স্নাতক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করতে সরকারি পর্যায়ে এই খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির জোর তাগিদ দিয়েছেন শিক্ষাবিদেরা।







