আর্কাইভ
ads
logo

'আবারও দখলকারী চক্রের নজরে ইসলামী ব্যাংক'

সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশকাল: ৯ জুন ২০২৬, ০৮:৫২ পি.এম
'আবারও দখলকারী চক্রের নজরে ইসলামী ব্যাংক'

ads

ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেছেন, ব্যাংকটিকে কেন্দ্র করে আবারও একটি দখলকারী গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের তৃতীয় দিনে কার্যপ্রণালী বিধির ৬৮ বিধিতে দেওয়া এক নোটিশ উত্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে এবং রেমিট্যান্স আহরণের ক্ষেত্রেও এটি অন্যতম প্রধান ব্যাংক। তার দাবি, ২০১৬ সালে তৎকালীন সরকারের সময় নানা প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকটি ৪৪৭ কোটির বেশি টাকা মুনাফা করেছিল এবং খেলাপি ঋণের হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ।

তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাটের কারণে ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। ২০২৪ সালে এসে মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ৫১ শতাংশে পৌঁছায়। এর ফলে শেয়ারহোল্ডাররা কোনো লভ্যাংশ পাননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটি যখন ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে এবং মুনাফা ১০৮ কোটি টাকা থেকে ১৩৭ কোটিতে উন্নীত হয়, তখনই নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়।

তার অভিযোগ, পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বিতর্কিত ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনায় অযৌক্তিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

লিখিত নোটিশে শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের তকমা ব্যবহার করে ব্যাংকটি দখলের চেষ্টা চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত ব্যবস্থাপনা দায়িত্বে থাকাকালে গ্রাহক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাংকটির প্রতি আস্থা ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।

এর প্রমাণ হিসেবে তিনি দাবি করেন, মাত্র একদিনেই গ্রাহকরা প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার আমানত তুলে নিয়েছেন।

ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় তিনি তিনটি দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো— ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত ও বৈধ মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় সব ধরনের অন্যায় ও অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা এবং কার্যপ্রণালী বিধির ৬৮ বিধি অনুযায়ী বিষয়টি নিয়ে সংসদে জরুরি আলোচনা আয়োজন করা।

যদিও স্পিকারের নির্ধারিত সময়সীমার কারণে তিনি তার নোটিশের পুরো বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেননি, তবুও ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে তার উত্থাপিত অভিযোগ সংসদে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।


ads

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ